শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সরকারের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে মানুষের জানমালের বেশি ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
এদিকেঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার আগে শনিবার দিনের মধ্যেই প্রায় ১৮ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩ লাখ লোক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঝড় মোকাবেলার জন্য সবরকমের প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া আছে। এমনকি ঝড় পরবর্তী রিলিফ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।’
সাত বছর পর শ্রমিক লীগের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করে শেষ হাসিনা দীর্ঘ বক্তব্যে শ্রমিকদের জন্য তার পিতা বঙ্গবন্ধুর নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। শ্রমিকদের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। আন্দোলনে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও সমালোচনা করেন সরকার প্রধান।
শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনে বঙ্গবন্ধু গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা কৃষক, শ্রমিক, সরকারি ও বেসরকারি সবাইকে একত্রিত করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। দ্রুত অর্থনৈতিক মুক্তি লাভের জন্য তিনি যে প্লাটফর্ম নিয়েছিলেন তাই ছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। যাকে অনেকেই বলে বাকশাল।
তিনি বলেন, ‘সে সময় বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রবৃদ্ধি ছিল সাতের উপরে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে চলে গিয়েছিল। আমাদের দুর্ভাগ্য সে সময়ে এলো চরম আঘাত। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো। আমরা দুবোন বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। সেটা যদি চালু হতো তাহলে আমাদের এত পিছিয়ে থাকতে হতো না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে মানুষ উন্নয়নের সুফলটা পাচ্ছে। মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখছে। শিল্পায়ন এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই কাজ করেছে। কাজ করে যাবে।’
