নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক নিয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

গতকাল সোমবার (০২ মার্চ ২০২০) জন্মগতভাবে শারিরিক প্রতিবন্ধী মো. সুমনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়ার রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রুল জারি করে হাইকোর্ট।রুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ পাঁচ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

জানা গেছে, জন্মগতভাবে শারিরিক প্রতিবন্ধী মো. সুমনের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকের পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এফ. আর. এম নাজমুল আহাসান এবং বিচারপতি কে. এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সহকারি শিক্ষক পদে তাকে প্রতিবন্ধী কোটায় নিয়োগ না দেওয়ার বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এবং তাকে সহযোগীতা করেন অ‌্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম রাহুল ও অ‌্যাডভোকেট মো. সোহরাওয়ার্দী সাদ্দাম এবং রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডিপুটি অ‌্যাটর্নি জেনারেল এ.বি.এম আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ বাশার।

আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া বলেন, সুমন জন্মগতভাবে শারিরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় মানবিক কারণে এই রিট মামলাটি বিনা ফি তে আমি করেছি। বিগত ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবন্ধী মো. সুমন ‘প্রতিবন্ধী কোটায়’ সহকারি শিক্ষক পদে আবেদন করে সফলভাবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু তাকে উক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরে আবেদনকারী তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মো. দেলোয়ার হোসেন উপপরিচালক (সংস্থাপন) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আরটিআই), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তথ্য প্রদান করে চিঠি ইস্যু করে। ওই চিঠিতে প্রতিবন্ধী মো. সুমন লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষায় ১১ নম্বর পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঢাকার ডেমরা উপজেলায় ১৭ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হলে ১০ ভাগ কোটায় প্রতিবন্ধী সুমনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। পরে সম্পূর্ণ বিনা ফিতে মানবিক দিক বিবেচনায় হাইকোর্টে সুমনের পক্ষে রিট দায়ের করি।

আদালতের আদেশের পর এ বিষয়ে  সুমন বলেন, ‘আদালতে আদেশে আমি খুশি হয়েছি। আশা করি আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে, মানবিক দিক বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ আমাকে দ্রুত নিয়োগ দেবেন।’

আমাদের বাণী ডট কম/০৩ মার্চ ২০২০/পিপি 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।