গত ৫ জানুয়ারি ২০২০ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ (০৯ জানুয়ারী’ ২০২০) বেলা ১১:৩০টায় বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে সংগঠন কার্যালয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলার আহ্বায়ক দিলরুবা নূরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা নেতা রাধা রানী বর্মন, আকলিমা খাতুন, রেনু বালা

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারীর মানবিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর নারী সংগঠন হিসেবে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ হয় না। গণতন্ত্র, মানবতা ও সভ্যতার স্বার্থে, উন্নত রুচিবোধ ও সংস্কৃতি চেতনার আলোকে নারী-পুরুষের সৌন্দর্যম-িত মিলিত জীবন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের বিকল্প নেই। সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতির স্বার্থে, সুস্থ নিরাপদ জীবন যাপন ও পরবর্তী প্রজন্মের মনুষ্যত্ব নিয়ে বেড়ে উঠার স্বার্থে আজ নারী-পুরুষের মধ্যকার অসাম্য-বৈষম্য বিলোপ সময়ের দাবি। সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে সকল প্রকার অসুস্থ মানসিকতা, প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা, ভোগবাদী প্রবণতা দূর করার জন্য একটি শক্তিশালী নারী সংগঠন, নারীমুক্তি আন্দোলন ও নারী-পুরুষের মিলিত সংগ্রাম অপরিহার্য। শুধু অধিকারের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সমাজ সচেতনতা বিকাশ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সংগ্রামের পথেই সত্যিকার মর্যাদা ও অধিকার আদায় সম্ভব। সমাজের আমূল পরিবর্তনের বিপ্লবী লড়াইয়ের পথে সার্বিক মুক্তি একদিন অর্জিত হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নারীর প্রতি নিপীড়নের পরিসংখ্যানগুলো দেখলে কোনভাবে বুঝার উপায় নেই যে দেশ সভ্য হচ্ছে, পূর্বের যে কোন বছরের তুলনায় এ বছর ধর্ষণসহ সব ধরণের নারী নির্যাতন বেড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকার সিডও সনদের দুটি ধারা যে সংরক্ষণ করে রেখেছে তা এখনো প্রত্যাহার করেনি, দেশে এখনো পারিবারিক আইন বলবৎ রেখে নারীকে পুরুষের অধঃস্তন করে রেখেছে, সেই সঙ্গে নারীর প্রতি ভোগ্য মানসিকতা দূর করার বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। সমকাজে সম মজুরী থেকে নারী বঞ্চিত, কর্মক্ষেত্রে নাই নারীর নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে নারীকে দিতে হয় মাতৃত্বের দ-, এই কঠিন সময়ে নারীর কাজ চলে যায়, অপ্রাতিষ্ঠানিকখাতের নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন অর্থনৈতিক কোন সুরক্ষা নাই। গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য এখন পর্যন্ত জিডিপিতে যুক্ত না হওয়ায় এই নারীদের শ্রমের প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলা পারিবারিক জীবনেও নারীকে অবহেলিত করে রেখেছে। এমন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতৃবৃন্দ, নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম দেশব্যাপী যে আন্দোলন পরিচালনা করছে সেই আন্দোলনকে সর্বদিক থেকে সহযোগিতা দিয়ে ও অংশগ্রহণ করে শক্তিশালী করার আহ্বানদেশবাসীর প্রতি জানান ।

সাম্যসমাজ নির্মাণের পরিপূরক বিপ্লবের জমি তৈরি করতে দেশে, রাষ্ট্রে, সমাজে, পরিবারে সর্বত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করারও আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।