বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে একটি আবাসিক হোটেলের কনফারেন্স রুমে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) নগরীর আবাসিক হোটেল এরিনায় ওই কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতি ঘটাতে হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং একটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এ হাওলাদার এমন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে বরিশালের আবাসিক হোটেল এরিনার সপ্তম তলার কনফারেন্স রুমে গিয়ে দেখা যায়, একটি টেবিলে চার যুবক ও দুই যুবতী কাগজ কলম নিয়ে বসে আছেন। সেখানে তাদের পাশে চেয়ার দিয়ে বসে আছেন আরও চার ব্যক্তি।
পরে জানা যায়, সেখানে বাকেরগঞ্জের আলহাজ হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা চলছে। সেখানকার একাধিক কক্ষ পরিদর্শক নিজেদের পরিচয়ও জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এক পর্যায়ে জানা যায়, ওই চারজন আলহাজ হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আর এ হাওলাদার এর সহযোগী। আর এ হাওলাদার ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সেখানকার একাধিক সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ডিজির প্রতিনিধি বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এ হাওলাদার হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন।
হোটেল কক্ষে কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এ হাওলাদার ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা আমার বাসভবনে নেবার ক্ষমতাও আমি রাখি। এখানে নিয়মের কোনো বিষয় নেই। আমার কলেজের পরীক্ষা কোথায় নেব সেটা আমার ব্যাপার।
জানতে চাইলে আলহাজ হযরত আলী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, পরীক্ষার ভেন্যু ঠিক করবেন কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। তার সুবিধা মতো স্থানে পরীক্ষা নেয়া হবে এটাই নিয়ম। সভাপতি হোটেল এরিনার কনফারেন্স কক্ষে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে আমরা সেরকমই আয়োজন করেছি।
অধ্যক্ষ জাকির বলেন, সকাল ১০টায় কলেজের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের দুইটি শূন্য পদে এবং ল্যাব সহকারীর একটি শূন্য পদে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অপর পাঁচটি পদ যথাক্রমে লাইব্রেরিয়ান, আয়া, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশ প্রহরী পদে পরীক্ষা একই স্থানে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কতজন আবেদন করেছেন কিংবা কতজন নিয়োগ প্রার্থী পরীক্ষাই অংশ নিচ্ছেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।
অবশ্য নিয়োগ প্রত্যাশীরা জানান, এই পদগুলোতে গত ১৮ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সভাপতি ও অধ্যক্ষের স্বজনরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ফের পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সভাপতি চাইলেই যে কোনো স্থানে কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা নিতে পারেন না। সরকারের (ডিজি) প্রতিনিধি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষও হোটেলে যেতে পারেন না।
তিনি বলেন, কলেজের তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা কলেজ কিংবা পাশাপাশি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হতে পারত। একটি আবাসিক হোটেলে পরীক্ষা নেয়ার অর্থ প্রার্থী পূর্ব থেকে নির্বাচিত করা।
