রুমি নোমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়  সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বহিরাগতদের দেয়া আগুনে পুড়েছে মেহগনি ও পেয়ারা বাগান।  গতকাল বুধবার (১৯ জানুয়ারি ২০২০) বেলা ৩টার দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনের মেহগনি ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সামনের পেয়ারা বাগানে আগুন দেয় বেশ কয়েকজন স্থানীয় বহিরাগত। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ, আনসার ও শিক্ষার্থীদের প্রায় আধাঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন বহিরাগত যুবক ও কিশোর এ মেহগনি ও পেয়ারা বাগানের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ, আনসার ও শিক্ষার্থীদের প্রায় আধাঘন্টা চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরে শৈলকূপা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এ ঘটনায় জড়িতদের তিনজনকে শনাক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ। তারা হলো ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী আনন্দনগর গ্রামের দোকানদার মিন্টু মুন্সির ছেলে সোহান, কটা মিয়ার ছেলে রাব্বি ও হারুনের ছেলে সায়েম। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সব পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রোজদার আলী রুপম।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে মাদক সাপ্লাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। রাত বাড়লেই এদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময় ছিনতাই ও ছাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবি, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হোক। আর যারা বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘জড়িতদের পরিবারের তথ্য সংগ্রহের জন্য নিরাপত্তা বিভাগ কাজ করছে। ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতি কম হলেও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমরা এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নেব।’

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।