এলাকাবাসী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দিনভর মানববন্ধন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অবরোধ এর প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু অবশেষে শিক্ষকতা থেকে পদত্যাগ পত্র দিয়ে রক্ষা পেল। গত বৃহস্পতিবার থেকে তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্য পূর্ণ সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
এলাকাবাসী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক লাল মোহাম্মদ যৌথভাবে যোগসাজশে উক্ত অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের এসকল হেনস্থা ও শ্লীলতাহানীর মতন কার্যক্রম করে আসছিল। অবশেষে শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মাফ্ফারা তাসনীন ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম মেহেদী মাসুদ কে পেয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা আরো জোরালো দাবি তুলে বসেন অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু কে বিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করতে হবে। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেলা দুইটার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু বিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ পত্র স্বেচ্ছায় প্রদান করার পর এলাকাবাসী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ১১/৭/২০১৯ স্কুল শেষে অংঙ্ক বুঝিয়ে দেয়ার প্লভোন দেখিয়ে ফাঁকা রুমে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রীর শ্রীলতাহানি চেষ্টা করে কথিত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু (স্যার)। এমনিই অবস্থায় শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্কুলের একজন কর্মচারী এবং একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান। উক্ত ঘটনা জানাজানি হলে অবস্থা ভয়াবহতা দেখে কথিত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু ওই স্থান থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানিয়রা জানান।
সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মোহাম্মদ বলেন, বেয়াদব ও দুশ্চরিত্রের অধিকারী মানবিক বিভাগের শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু’র বিরুদ্ধে একাধিক মেয়েলি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে একাধিক বার বিদ্যালয় থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালে,স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে একাধিক বার ধর্ষন করে। আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পরে। পরবর্তীতে স্থানিয় এলাকা বাসির চাপে উক্ত শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়।
২০১১ থেকে ২০১৯ এর মাঝেও একাধিক শিক্ষার্থী কে ধর্ষনের চেষ্টা করে কথিত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দুখু। কিন্তু স্কুল কতৃপক্ষ স্কুলের মান সম্মানের ভয়ে বিষয় গুলো ধামাচাপা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বহাল রাখে।
এদিকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার অবরোধ ও মানববন্ধনের পর উপজেলা নির্বাহি অফিসার মাফ্ফারা তাসনীন নজরুল ইসলাম দুপুর পদত্যাগপত্র অভিভাবক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে দেখালে পরে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসী তা প্রত্যাহার করে শোকরানা আদায় করে এবং কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান সেইসাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মোহাম্মদ ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কে এরকম অন্যায় ও ও দুশ্চরিত্রার শিক্ষককে কখনো প্রশ্রয় না দেওয়া হয় সে বিষয়ে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
