মেহেরপুর সংবাদদাতা; জেলার গাংনী উপজেলা শহরের প্রধান সবজি বাজার এখন পানির নিচে। গতকাল মঙ্গলবার  (১৭ জুন ২০২০) বিকেল থেকে রাত অবধি ভারী বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে, বাজার করতে না পেরে ফিরে গেছেন অনেক ক্রেতা।

  • পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে কাঁচা সবজি ও মাছ। একদিকে বৃষ্টির পানিতে সবজি নষ্ট অন্যদিকে ক্রেতা ফিরে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র এই ব্যবসায়ীরা। জলাবদ্ধতা নিঃষ্কাশনের বিষয়টি মাথায় না রেখে হাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

করোনা সংক্রমণরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে দুই মাস আগে প্রশাসনের নির্দেশনায় গাংনী পৌরসভা অস্থায়ী হাটের কার্যক্রম শুরু হয়।

  • ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে গাংনী শহরের প্রাণকেন্দ্রের স্থায়ী হাটটি সরিয়ে ফুটবল মাঠে নেয়া হয়। দুই মাস ধরে এখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চট বিছিয়ে সবজি ও মাছ বিক্রি করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পূর্বের ন্যায় হাটে বসেন সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ভারী ভারি বর্ষণের ফলে ফুটবল মাঠে হাঁটু পানি জমে। পানি নিঃষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দোকানের সব পণ্যই পানিতে নিমজ্জিত হয়। অনেক পণ্য পানিতে ভেসে থাকে। এ যেন্য বন্যা কবলিত কোন এলাকা। ভারী বর্ষণে হাটের অবস্থা কি হবে সে বিষয়টি বিবেচনায় না রেখে অস্থায়ী হাট বসানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতা জানান, স্থায়ী হাটের পাশে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখানে হাট সম্প্রসারণ করা গেলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব পক্ষান্তরে ব্যবসায়ীদের এমন দুর্দশায় পড়তে হবে না।

  • গাংনী সবজি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ মাঠ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কোন ভাবেই আর কেনাবেচা সম্ভব হয়নি। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর মাছ মাঠের পানিতে লাফিয়ে পড়ে। সেগুলো আর ধরা সম্ভব হয়নি। অনেক ব্যবসায়ী তাদের ক্ষুদ্র দোকান সরিয়ে নিলেও মাছ ও সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবজি বিক্রির টাকাও হারিয়ে গেছে অনেকের।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল হান্নান বলেন, বৃষ্টির পানিতে পেঁয়াজ, রসুন ও আলু তলিয়ে যায়। পানি লাগার পরে এ ৩টি পণ্য বেশিক্ষণ থাকে না। এখানকার ৪ শতাধিক ব্যবসায়ীর কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

  • অস্থায়ী ওই হাটে সবজি কিনতে আসা গাংনী ঈদগাহ পাড়ার আব্দুল করিম বলেন, হাঁটু পানির মধ্যে বাজার করতে না পেরে অনেক ক্রেতা ফিরে গেছেন। স্থায়ী হাটের আশপাশে সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে হাটটি সম্প্রসারণ করলে এমন ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব ছিল।

আমাদের বাণী ডট কম/১৭  জুন ২০২০/পিপিএম 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।