চিকিৎসার সময় কৌশলে তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া এবং গালে চুমু দেওয়ার অভিযোগ উঠা সেই চিকিৎসককে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে ওই ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে না পারলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
রোববার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সানোয়ার হোসেন সমাজদার ও মেহেদী হাসান ওই তরুণীর পক্ষে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞশওকত হায়দার বরাবর এই আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশ পাঠানো আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেন ওই চিকিৎসক তরুণীর সঙ্গে যৌন হয়রানি করে দুঃখিত বলে অপরাধ স্বীকার করেছেন। যা সমাজ ব্যবস্থার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সামাজিক অবক্ষয়ও বটে।
তাই এই কর্মকাণ্ডের দায় তিনি কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরণের কর্মকাণ্ড বিএমডিসি আইনে নীতিমালা বিরোধী। তার এই কুরুচিপূর্ণ মনোভাবের কারণ দর্শাতে চিঠি পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে তার বক্তব্য বিবৃতি আকারে চাওয়া হয়েছে।
না হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্প্রতি চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে ওই তরুণী জানান, চলতিবছরেরজানুয়ারি মাসে ত্বকে ব্রণের সমস্যা নিয়ে পরিচিত একজনের রেফারেথমবার পপুলার হাসপাতালের ওই ডাক্তারের কাছে যান তিনি।
পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আরো কয়েকবার ডাক্তারের কাছে যান তিনি। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ওই তরুণী ডা. শওকতকে জানান তার ত্বকের সমস্যা আবার বেড়েছে, রাতে তিনি চেম্বারে বসবেন কিনা?
এসময় ওই ডাক্তার চেম্বারেই আছেন জানিয়ে মেয়েটিকেতখনইযেতে বলেন। পরে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ওই তরুণী জানতে চান তার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আছে কিনা।
এসময় সেই ডা. শওকত বলেন, যদি সেচায়তবেএকটাইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে। তরুণী ইনজেকশন দিতে রাজি হলে ওইডাক্তার তার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। পরে ওই তরুণী চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার মুখে ইনফেকশন দেখার কথা বলে চুমু দেন।
এই অভিযোগ পাওয়ার পর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. মো. শওকত হায়দারকে হাসপাতাল থেকে বরখাস্ত করে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পপুলার হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অচিন্ত্য কুমার নাগ।
