নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ; শ্রম আইনের ২৩, ২৭ ধারাসহ সকল অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, মালিকানা নির্বিশেষে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিহত-আহতদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, বন্ধ কারখানা চালু, ছাঁটাই-নির্যাতন-মিথ্যা মামলা বন্ধের দাবিতে ৬ মার্চ ২০২০ ঢাকায় কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট।
আজ শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০) বিকাল ৫ টায় জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এই শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের শিল্প, কৃষি, সেবাসহ সকল খাতে উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে, বার্ষিক উৎপাদন বা জিডিপি ২৫ লাখ কোটি টাকার বেশি, রপ্তানি আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি, প্রবৃদ্ধি প্রতি বছর ৮ শতাংশ অধিক। এসব তথ্য বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু এসব হচ্ছে কাদের শ্রমে? শ্রমিকের শ্রম ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাপড়, খাদ্য, নির্মাণ সামগ্রী, যানবাহন ইত্যাদি তৈরি সম্ভব নয়। আবার শ্রমিকের হাতের ছোঁয়া না পেলে কোন যন্ত্র দিয়ে কাজ করাও সম্ভব নয়। যন্ত্রের পিছনে যে শ্রমিকের শ্রম, যার কারণে উৎপাদন হয় তার মূল্য কতটুকু? গত ৪৮ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ জন থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার। এদের এত সম্পদ এলো কোথা থেকে, তৈরি করলো কারা? গার্মেন্টস, রি-রোলিং, পরিবহণ, টেক্সটাইল, ইমারত নির্মাণসহ যত ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে শ্রমিক ছাড়া কোনটিতেই কি উৎপাদন সম্ভব? কিন্তু মুনাফা বাড়াতে মালিকরা সবসময় শ্রমিকের মজুরি কমিয়ে আর কাজের সময় বাড়িয়ে দেয়। একদিকে উন্নয়নের জোয়ার অন্যদিকে কোন রকমে জীবনধারণ করা শ্রমিক, একদিকে দ্রুত গতিতে ধনী হওয়ায় প্রথম অন্যদিকে সবচেয়ে কম মজুরির শ্রমিক, এটাই বাংলাদেশের চিত্র।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে ৬ কোটি ৩৪ লাখ শ্রমজীবী মানুষ এর মধ্যে ৮৮ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যাদের মজুরি ও কাজের কোন নিশ্চয়তা নাই। শ্রম আইনের বাধা, মালিকদের হয়রানি, ছাঁটাই, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের নির্যাতন, পুলিশের দমন-পীড়ন, মামলা ইত্যাদির কারণে শ্রমিকদের মাত্র ৪ শতাংশ ইউনিয়ন করতে পারছে। মালিক এবং সরকার জানে শ্রমিকরা সংখ্যায় বেশি হলেও অসংগঠিত শ্রমিক অসহায়। তাই শ্রমিকদের সংগঠিত হতে বাধা সৃষ্টি করে তাদের বিচ্ছিন্ন রাখে। দেশে কোন সর্বনিম্ন জাতীয় মজুরি কাঠামো নেই। ৪৩টি সেক্টরে মালিকরা যত কম মজুরি দিয়ে কাজ করাতে পারে সে চেষ্টা করে। বাংলাদেশের পে-কমিশনে সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন বেতন অনুপাত ১০:১। বাস্তবে এই বৈষম্য আরও বেশি। পে-কমিশন অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ২০১৫ সালে ৮ হাজার ২৫০ টাকা বেসিক হিসেবে বর্তমানে ১৮ হাজার টাকার বেশি দাঁড়ায়। কিন্তু গার্মেন্টসে ৮ হাজার টাকা এবং সকল খাতের শ্রমিকরা পে-কমিশনের চেয়ে অনেক কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়। বেকারত্ব, মালিকদের শক্তি, সরকারের সহায়তা আর কারণে শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারছে। শ্রম আইনের ২৩, ২৬, ২৭, ১৭৯, ১৮০ ধারার অপব্যবহার করে মালিকরা শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারাসমূহ বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষতিপূরণ মাত্র ২ লাখ টাকা। উন্নয়নের মহাসড়কে মধ্যম আয়ের দেশে একজন শ্রমিকের জীবনের মূল্য নিয়ে চলছে এই প্রহসন।
নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৬ মার্চ ২০২০ ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশ ও গণমিছিল সফল করার জন্য সমস্ত শ্রমজীবী মানুষ তথা দেশের বিবেকবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ।
আমাদের বাণী ডট কম/২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০/এভি
