বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদরে অবস্থিত রুমা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রত্না দাশের বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্টিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২ টায় রুমা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উক্ত বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্টিত হয়।

বিদায় সংবর্ধণা উপলক্ষ্যে অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিঠির সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন থাংখাম লিয়ান বম,  ভাইস চেয়ারম্যান রুমা উপজেলা পরিষদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার অঞ্জন চক্রবর্তী,শৈমং মার্মা শৈবং চেয়ারম্যান, রুমা ২নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ,মং মং মার্মা, প্রধান শিক্ষক চিত্ররত পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সায়েদ উদ্দিন  (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক,  রুমা বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এছাড়া ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ উপস্হিত ছিলেন।

এই সময় সভার প্রধান অতিথি শামসুল আলম বলেন, শিক্ষক দের মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়।কারণ তাদের হাত ধরেই শত শত ইউএনও,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার তৈরী হয়।

বিশেষ অতিথি থাংখাম লিয়ান বম বলেন, এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমি বেশ গর্বিত যে আমার ছাত্র জীবনের শুরুতেই রত্না ম্যাডাম এর মতো এক শিক্ষিকা কে পেয়েছিলাম।আমার অন্যান্য শিক্ষক বিশেষ করে রত্না ম্যাডাম একটা শক্তভিদ তৈরি করে দিয়েছিলেন বলেই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করতে পেরেছি।আজ উনার বিদায়ী মুহূর্তে পুরোনো স্মৃতিগুলো আমাকে আবেগ আপ্লুত করে তুলেছে।আমি আমার অর্জিত শিক্ষা দিয়ে রুমা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্টিত করতে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো।পরিশেষে তিনি রত্না ম্যাডামের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন।

সংবর্ধিত শিক্ষিকা রত্ন রাণী দাশ তার বিদায়ী বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে অবসর গ্রহণের দিন পর্যন্ত আমি এই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুশিক্ষিত করার প্রয়াসে কাজ করে গেছি।দীর্ঘ সময় একটা প্রতিষ্টানে কাজ করলে এমনিতেই মায়া পরে যায় আর প্রতিষ্টানটি যদি কোন বিদ্যালয় হয় তাহলে মায়াটা একটু বেশীই পরে যায়।আজ আমি বিদায়ের কষ্ট ভুলে আনন্দচিত্তে বলতে চায় আমার বিদ্যালয়ের ছাত্র থাংখাম লিয়ান রুমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে বিদায় জানাতে এসেছে।একজন শিক্ষাগুরুর কাছে এটা সত্যি অনেক বড় পাওয়া।

পরে সভার সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।