বান্দরবানের রুমা উপজেলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্মস্হলে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেলোয়ার হোসেন মাসের বেশীরভাগ সময় বিদ্যালয়ে  উপস্হিত না থেকে নিয়মিত বেতনভাতা ভোগ করে চলেছেন। এতে করে  শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে বলে এই নিয়ে অভিবাবক মহলে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত বিদ্যালয়ের বিভিন্নখাতে ব্যায়ের ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমস্তটায় তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

এই বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সোমা রাণী বড়ুয়া জানান, রুমা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন সেটা তিনি এক সাংবাদিকের কাছে শুনেছিলেন। সেই সময় তিনি দেলোয়ার হোসেন কে মৌখিক ভাবে সর্তক করেন তবে অর্থ কেলেংকারীর বিষয়ে তার জানা নেই। কারণ হিসেবে তিনি জানান উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু বান্দরবান জেলা পরিষদ সরাসরি ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সে ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি ওয়াকিবহাল নন তবে এই বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এই বিষয়ে রুমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, এই বিষয়টা সম্পর্কে আমি পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলতে চাইনা। তিনি আরো বলেন তবে বিষয়টি আমলে নিয়ে আমি আগামী মাসিক মিটিং  এই বিষয়ে তদন্ত করার জোড় দাবী জানাবো।রুমা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সে যে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে সেটা শতভাগ সত্যি।এই ব্যাপারে বারবার জেলা পরিষদ বরাবরে জানানো হলে ও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাবস্হা গ্রহন না করাই তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন।তিনি আরো বলেন এই শিক্ষকের খুঁটির জোড় কোথায় সেটা আমার বোদগম্য হচ্ছে না।তিনি তার অপসারণ দাবী করেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই প্রতিবেদক সরজমিনে বিদ্যালয়ে গেলেও সেখানে দেখা মেলেনি স্কুল প্রধান দেলোয়ার হোসেনের। পর পর ৩ দিন স্কুলে গিয়ে তার কক্ষে  তালা ঝুলতে দেখা গেলেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন কে পাওয়া যায় নি।

বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী তাদের নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান,এমনিতেই স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে যার ফলে অনেক গুলো বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়না। তার উপর হেড স্যারের লাগাতার অনুপস্থিতি আমাদের পড়াশোনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে।

এই বিষয়ে রুমা  উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ  সম্পাদক শাহজাহান জানান, আমি একজন ছাত্রনেতা হবার পাশাপাশি ওই বিদ্যালয়ের একজন অভিবাবক। আমার ছোট বোন এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষকের এই ধরনের কর্মকান্ড আর সহ্য করা হবে না। তিনি আরো বলেন আমি ব্যাক্তিগত কাজে রুমার বাইরে আছি। এই ব্যাপারে প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক কাঞ্চন কর্মকার বলেন, স্কুল টার উপর যেনো কালো মেঘ গ্রাস করেছে। আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক যেনো সোনার হরিণ।তবে অর্থ আতসাৎ এর বিষয়ে তিনিও কিছু জানেন না।

অর্থ লোপাটের বিষয় টি কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহবান জানান বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী জর্জ বম, রুবেল বড়ুয়া নোবেল সহ এলাকার সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম এর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।