হুমায়ুন কবির, কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতাঃ জেলার খোকসা উপজেলায় বিদেশ ফেরত ৬৪ জনের মধ্যে ২৮ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। হোম কোয়ারেনন্টাইনের আইন লংঘন করায় ৪ জন প্রবাসীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
এদিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার আইসুলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হলেও নেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা সহ চিকিৎসা উপকরন। নেই চিকিৎসকদের নিরাপত্তা পোশাক।
সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের উপদ্রব বৃদ্ধির পর বিদেশ থেকে খোকসায় ফিরেছেন ৬৪ জন প্রবাসী। বর্তমানে এদের মধ্যে ২৮ জনকে হোম কোয়ারাটাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাঁকি ৩৬ জন ১৪ দিন অতিবাহিত করায় তারা পরিবারের সাথে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। কোয়ারেনটাইনে থাকার আইন লঙ্ঘন করায় উপজেলার শোমসপুর, একতারপুর, শিমুলিয়া, ইউনিয়নের ৪ প্রবাসীকে প্রায় ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত । ইটালি, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরে আসা উপজেলার সব প্রবাসী এখনো পর্যন্ত সুস্থ রয়েছেন বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,করোনা আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যেই খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার আইসুলেশন ওর্য়াড প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে রোগ নির্নয়ের কিট, রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন, আইসুলেশন ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য কোন প্রকার অতিরিক্ত ওষুধের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। চিকিৎসক নার্সদের নিরাপত্তা পোষাক সরবরাহ করা হয়নি বলে একাধিক সূত্র জানায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী ও বর্হিরবিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা সব ধরনের রোগীর চিকিসৎসা দিচ্ছে। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার পোষাকসহ কোন প্রকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। একই হাল সাধারণ ওয়ার্ডে কর্মরত নার্সদের ক্ষেত্রেও।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, সদ্য দেশে ফেরা প্রবাসীদের বাড়িতে লাল পতাকা ও ষ্ট্রিকার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুহুত্যে মুহুত্যে সরেজমিন ও ফোনে তাদের অবস্থান তদারকি করা হচ্ছে। বিপদকালীন সময়ে যেসব প্রবাসীরা দেশে ফিরেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য পুলিশ জনপ্রতিনিধি ও প্রশসনিক কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক কাজ করে চলেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, এ উপজেলায় ২৩ মার্চ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। সদ্য দেশে ফেরা প্রবাসীদের হোম কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার আইসুলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ডাক্তার ও নার্সদের সুরক্ষা পোশাক না থাকলেও নিজেদের এপ্রন ও হ্যান্ড গøবস, মাক্স ব্যবহার করেই তারা নিজেদের সুরক্ষার চেষ্টা করছেন।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরীন কান্তা বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ২৮ জনের প্রত্যেকের বাড়িতে লাল পতাকা ও ষ্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের গতিবিধি নজরে রাখার জন্য প্রতি হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য ১ জন গ্রাম পুলিশ, ১ জন আনছার সদস্য নিয়োজিত আছেন। হোম কোয়ারন্টাইনের আইন যাতে লংঘিত না হয় সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ জন ম্যাজিষ্ট্রেট খোকসা উপজেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আমাদের বাণী ডট কম/২৩ মার্চ ২০২০/টিএ
