নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে রাজধানীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আধুনিকমানের অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রায় ডজনখানেক উন্নতসমৃদ্ধ শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এসব বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় গুলোতে মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে স্থাপন করা হবে আধুনিকমানের দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন। শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করা হবে। সংস্কার করা হবে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনগুলোও। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হবে সীমানা প্রাচীর।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানীর পুরাতন বিদ্যালয়ের দেয়াল সাজ-সজ্জাকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি, নিরাপদ পানি সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, সংযোগ সড়ক, চিলড্রেন’স প্লে কর্নার, অগ্নি প্রতিরোধকের মতো ব্যবস্থাও রাখা হবে। এ জন্য ১ হাজার ১৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে আমাদের বাণী ডট কম কে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) টার্গেট পূরণে গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই রাজধানীর ৩৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আধুনিকায়ন করার প্রকল্প নিয়েছি। সম্প্রতি একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। খুব দ্রুত পিডি নিয়োগ দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আকরাম আল হোসেন জানান, বেশ কিছু কারণে এসব বিদ্যালয়গুলো অবহেলিত ছিল। এগুলো আধুনিকায়ন হলে প্রাথমিকের শিশুরা বিদ্যালয়ে আনন্দের সঙ্গে পড়বে ও খেলবে। তিনি আরো বলেন, নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার উত্তরা ও পূর্বাচলে নতুন করে আরো ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছিল রাজধানীর ৩৪২টি বিদ্যালয়। এরমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যালয় জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়াও পুরান ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১২টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৩০ জন করে। একটি রুমের মধ্যে চলছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। অথচ ওইসব বিদ্যালয়ে আবার পাঁচজন করে শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিজ সন্তানকে ভর্তি করতে অধিকাংশ অভিভাবকের আগ্রহ নেই। এসব বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান খারাপ হওয়ায় তাদের আগ্রহ কম। কেবল নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এসব বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রাহী হচ্ছে না। এসব কারণেই সরকার ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আধুনিকমানের করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, নতুন এই প্রকল্পের নাম ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’ প্রকল্প। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। যা সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মেয়াদ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকার নতুন ১৪টি ও পুরাতন ৩৪২টি মিলে মোট ৩৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন সমৃদ্ধ বিদ্যালয় স্থাপন করা। বিদ্যালয়ে শিশুর শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়ার হার হ্রাস, শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটবে। শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, উচ্চশিক্ষা এবং পরিপূর্ণ উন্নতির ধারবাহিকতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা, রাজধানীর এসব বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিতসহ শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা।
এ বিষয়ে ডিপিপিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মূল অঙ্গ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনভিত্তিক চাহিদা যাচাই করে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুতের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর, আসবাবপত্র, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্লাম্বিং, নিরাপদ পানি প্রভৃতি নির্মাণ/মেরামত/সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো দৃষ্টিনন্দন করতে হবে। পাশাপাশি উত্তরা ও পূর্বাচলের নতুন ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী। ডিপিপিতে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের প্যাকেজ টেন্ডারের ক্ষেত্রে এলটিএম ও ওটিএম দুই পদ্ধতিই রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের অধীনে ৪জন কম্পিউটার অপারেটর এর পদের সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্পে নির্ধারিত জনবলে সহকারী পরিচালকের পদবি এবং তার বেতন স্কেল ষষ্ঠ গ্রেড এর পরিবর্তে নবম গ্রেডের হবে। হিসাব রক্ষক প্রেষণে নিয়োগের পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগের সংস্থান রাখা হয়েছে।
আমাদের বাণী ডট কম/ ১৪ মার্চ ২০২০/পিএ
