Shadow

অনলাইনে গরু বিক্রির পরিকল্পনা

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  মাসখানেকও বাকি নেই পবিত্র ঈদুল আজহার। প্রতি বছর এই সময়ে গরু নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা আতঙ্কে গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার প্রান্তিক খামারিরা। গরুর দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। তবে প্রাণিসম্পদ দফতর এবার অনলাইনে গরু বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

খামারিরা বলছেন, এবার গরু লালন-পালনের খরচের তুলনায় প্রতি গরুতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে- এমন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন অনেকেই।

একাধিক খামারির সাথে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে করোনা কারণে প্রান্তিক খামারিরা গরুর সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। একদিকে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও অন্যদিকে গরুর দাম কম হওয়ায় দিন দিন তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

উপজেলার দেলুয়া গ্রামের ‘রাজাবাবু’খ্যাত মোঃ খায়রুল ইসলাম খান্নু মিয়া জানান, তিনি ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে ১০টি গরু নিয়ে একটি খামার গড়েছেন। খামারে থাকা এক একটি গরু প্রায় তিন বছর আগে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় কেনা। এসব গরু বাড়তি লাভের আশায় লালন-পালন করলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এবার গতবারের বিক্রি না হওয়া ৫২ মণ ওজনের ‘ভাগ্যরাজ’কে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আরো জানান, ভাগ্যরাজকে বিক্রি না করতে পারলে পথে বসে যাব।

খামার মালিক মোঃ তোতা মিয়া জানান, বর্তমানে তার খামারে ছোটবড় মিলে ১৫টি গরু আছে। গরুগুলোকে কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য গত ছয় মাস ধরে তিনি লালন-পালন করছেন। বাজারে গরুর যে দাম তাতে চিন্তা অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

  ঠাকুরগাঁওয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বেগুনী গাছের ধানের চাষ

তিনি বলেন, বর্তমানে যে দাম হচ্ছে তাতে মনে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রতি গরুতে লোকসান গুনতে হবে।

সাটুরিয়া প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট এক হাজার ৯০৮ জন গবাদিপশুর খামারি রয়েছেন। এসব খামারে মোট গবাদিপশু আছে ১৯ হাজার ৮৩৭টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৯৭টি গরু ও ১০হাজার ৩৪০টি ছাগল ও ভেড়া।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ মনির হোসেন বলেন, সাটুরিয়ার খামারে থাকা বেশিরভাগ পশু বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খামারিরা অনেকটা বিপদে পড়েছেন। আমরা তাদের মনোবল শক্ত রাখতে অনেক চেষ্টা করছি। অন্যান্য বছর সাটুরিয়ায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশ স্থানীয় খামারিরা পূরণ করতেন। এ বছরও তারা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য গরু-ছাগল পালন করছেন। তবে করোনার প্রকোপ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ এবার কোরবানি দেবে না। এতে খামারিদের পশুও কম বিক্রি হবে। আমরা সাটুরিয়ার খামারিদের কথা চিন্তা করে অনলাইনে গরু বিক্রি করা যায় কি-না সেই চেষ্টা করছি।

আমাদের বাণী ডট কম/০৬  জুলাই  ২০২০/পিপিএম 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •