প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আরো কঠোর নজরদারি আসছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলো। প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের সংক্রান্ত প্রতিবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও অংক করতে না পারার কথা বলা হয়েছে। সেটিকে আমলে নিয়ে প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ বাংলার ওপর জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি বিষয়েও যাতে দুর্বলতা কাটিয়ে লিখতে ও পড়তে পারে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আরো কঠোর নজরদারিতে আসছে প্রাথমিক স্কুলগুলো।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা পড়তে পারে না, এটি আমাদের ব্যর্থতা। আমাদের মনিটরিং ব্যবস্থা বেশ দুর্বল থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দু-চারজন দিয়ে মনিটরিং করা সম্ভব হবে না, এতে সবাই ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পাবে। এটিকে ঢেলে সাজিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। যার যতটুকু দায়িত্ব, ততটুকু পালন করলে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও বেগবান করে তোলা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে ২১ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতার আওতায় আনাসহ মোট ১৭টি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেনের সভাপত্বিতে এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মপরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে ২০২০ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়া, লেখা, শোনা ও বলার ওপর শতভাগ দক্ষ করে তোলা। উপ-আনুষ্ঠানিক ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ২১ লাখ নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতা প্রদান করা। ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মচারী ও কমকর্তাদের সমন্বয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয়পর্যায়ে ঢাকায় সমাবেশে।

  এবার ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীও পাবে এনআইডি

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৯ মার্চ বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন করা, শিক্ষা সপ্তাহ পালন, ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু বুক কর্নার ও শহিদ মিনার স্থাপন, স্টুডেন্টস কাউন্সিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ভাষণ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অর্জন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও অংক করতে না পারার কথা বলেছে। সেটিকে আমলে নিয়ে প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ বাংলার ওপর জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি বিষয়েও যাতে দুর্বলতা কাটিয়ে লিখতে ও পড়তে পারে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান সচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *