সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য মাসিক টিফিন ভাতা জোক্স মনে হয়, ২০০ টাকা। মাসে কার্যদিবস থাকে ২৫-২৬ দিন (ঐচ্ছিক ছুটি ছাড়া)। এখন ২০০ টাকাকে ২৫ দিয়ে ভাগ করলে প্রতিদিনের জন্য বরাদ্দ থাকে আট টাকা। এই টাকা দিয়ে বর্তমান সময়ে এক কাপ চা খাওয়াও অসম্ভব। বর্তমান বাজারে পেয়াজের মুল্য কেজিতে ২০০ টাকা যা একজন প্রাথমিক শিক্ষকের এক মাসের টিফিনের টাকা।
বিষয়টা আরও বেশি চোখে পড়বে অন্যান্য পেশায় যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে বিবেচনা করলে। দেখা যাবে কতটুকু বৈষম্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কর্মসময় সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। উপরন্তু, বেশির ভাগ প্রাথমিক শিক্ষকের কর্মস্থল থাকে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরবর্তী এলাকায়। যার কারণে অনেক সময় দেখা যায়, তাঁরা সকালে না খেয়ে বেরিয়ে পড়েন সঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছার জন্য।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগেকার সময়ের চেয়ে আমূল পরিবর্তন এসেছে। যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতি। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা, আন্তঃইউনিয়ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় শতভাগ মিডডে মিল চালু হয়েছে, আর মিডডে মিলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক একই সঙ্গে বিদ্যালয়েই দুপুরের খাবার খাবেন অথচ টিফিন সময় মাত্র ৩০ মিনিট।
এই স্বল্প সময়েই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে খাওয়া এবং বিশ্রামের জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের বিভিন্ন খেলা চর্চার জন্য সুযোগ থাকলেও সময় কোথায়? পক্ষান্তরে শিক্ষকদের খাওয়া এবং ইবাদত, বিশ্রাম মাত্র ৩০ মিনিট খুবই অপ্রতুল। তা ছাড়া শিক্ষকদের টিফিন ভাতা মাসিক মাত্র ২০০ টাকা যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
একই স্কেলে অন্যান্য বিভাগে যারা চাকরি করেন তাদের একদিনের টিফিন ভাতা ২০০ টাকার বেশি দেওয়া হয়। তাই শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের মানসিক ও শারীরিক দিক বিবেচনায় শিক্ষা পরিবারের স্বার্থে টিফিন সময় এবং টিফিন ভাতা বর্ধিত করা শুধু অতিব জরুরীর নয় শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
এদিকে শিক্ষকদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৭০০ টাকা। এই স্বল্প টাকায় সারা মাসে কি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সম্ভব? অথচ একজন ভালো চিকিৎসকের ফি ৫০০ টাকার কম নয়। সেখানে এই ভাতা সত্যি লজ্জাজনক। এখনো অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পারিবারিক চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে পুরো মাসের বেতনের বেশির ভাগই ব্যয় করে ফেলতে হয়। ভেজাল খাবার আর সময়ের পরিবর্তনে রোগব্যাধির প্রকোপ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে চিকিৎসা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
