Shadow

এবারও বুক চিতিয়ে লড়ে গেল অপরাজেয় সুন্দরবন

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের বাণী ডেস্ক, ঢাকা; প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়ে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে সুন্দরবন উপকূলে ঢুকে পড়েছে । ভারতের সাগারদ্বীপের পাশ দিয়ে সুন্দরবন উপকূল দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ দিয়ে বাংলাদেশের ভূভাগে ওঠে আসে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড়টি। আমফানের প্রভাবে ফুঁসে ওঠেছে সাগর। প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় আমফান বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপকূলের বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে।ওই সময় এর কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝেড়ো হাওয়ার আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, বিশাল ব্যাপ্তির এ ঝড় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসে এবং এর অগ্রভাগ পৌঁছে যায় কলকাতায়। ঘূণিঝড়টি তাণ্ডব লীলা চালিয়ে অগ্রসর হয়েছে বাংলাদেশের দিকে। পশ্চিমবঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চল আমফানের প্রভাব আরও চার থেকে ছয়ঘণ্টা হতে পারে।

বাংলাদেশের ভূ-ভাগে ঘূর্ণিঝড় আমফানের গতিপথে বাঁধা হয়ে দঁড়িয়েছে বিশ্বের একমাত্র ম‌্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ব্যসের ঘূর্ণিঝড়টির সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়েছে সুন্দরবন। আমফানের সরাসরি বাংলাদেশে ভূভাগে ওঠে আসার পথে সুন্দরী, গেওয়াও ঝামটি গরান বৃক্ষের প্রাচীর গড়ে তুলেছে সুন্দরবন। সাগর থেকে ফুঁসে ওঠা জলোচ্ছাস স্থলভাগে আসতে পারছে না কেওড়া ঝোঁপের ব্যারিকেডের কারণে। ঘূর্ণিঝড়টি সুন্দরবনে চালিয়েছে ব্যাপক তান্ডব। উপড়ে নিয়েছে গাছ, ভেঙ্গেছে ডালপালা। উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমূদ্র থেকে ওঠে আসা জলরাশি সুন্দরবনের খাল-নদী-নালায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ -১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।

সুন্দরবনের বাঁধা আর প্রবল বৃষ্টিপাতে কমতে শুরু করেছে ঝড়ের শক্তি। সাইক্লোনের মূল গতিপ্রবাহ রাত ৯টা নাগাদ বাঁক নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর পেরিয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার পূর্বাভাস দিয়েছে, আমফানের সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করতে মধ্যরাত পেরিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড় আমফানের পুরোপুরি স্থলভাবে উঠে আসতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অর্থাৎ পুরো রাত লাগতে পারে। এর প্রভাবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে আমফানের প্রভাবে পুরো উপকূলীয় অঞ্চলেবইছে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া, ঝরছে মুষলধারে বৃষ্টি। সাগর হয়ে ওঠেছে উত্তাল। প্লাবিত হয়েছেে উপকূলীয় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও ৮ থেকে ৯ ফুট জলোচ্ছ্বাসে হয়েছে। অনেক এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে অনেকে।

  বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার: পরিকল্পনামন্ত্রী

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফান উপকূল অতিক্রম করা শুরু করেছে। অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। আর এসময় জলোচ্ছ্বাস হবে ১০ থেকে ১৫ ফুট।

আমফানের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও ঝড় দেখা গেছে। আজও ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরেও ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় রয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চল। ইতোমধ্যে কয়েক শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোর পয়েন্ট ভেঙে গেছে। জনপদে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। এদিকে পিরোজপুরে মজিবুর রহমান (৫৫) নামে একজন, ভোলায় সিদ্দিক ফকির ও রফিকুল ইসলাম  নামে দুজন, সাতক্ষীরায় মধ্য বয়সী এক নারী, পটুয়াখালীতে রাসেদ (৬) নামে এক শিশু ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে কাজ করা শাহ আলম নামে এক স্বেচ্ছাসেবী, যশোরে খ্যান্ত বেগম (৪৬) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩) নামে দুই জন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জোয়ারের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নামে এক যুবক ও বরগুনায় এক বৃদ্ধ সহ মোট  ১০  জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের বাণী ডট/২০ মে ২০২০/পিবিএ 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •