মির্জা ফখরুল

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মী মারা গেছেন। আর এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৪জন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২০) দুপুরে বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ কমিটি আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উত্তরার নিজ বাসা থেকে যুক্ত হয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে এ পর্যন্ত যেসব বিএনপি নেতারা করোনায় আক্রান্ত এবং আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে মোট আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচজন। চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন, মারা হয়েছেন ১৪ জন। কুমিল্লা বিভাগে আক্রান্ত ৫২ জন, মৃত্যু ১৯ জন। ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ১০১ জন, মৃত্যু ৩৬ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত ১০ জন, মৃত্যু একজন। খুলনা বিভাগে আক্রান্ত ৩০ জন। সিলেট বিভাগে আক্রান্ত ২১ জন, মৃত্যু দুইজন এবং ফরিদপুর বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন, মারা গেছেন একজন।

তিনি বলেন, এ তালিকার বাইরেও বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

২ কোটি ১৬ লাখ মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ২০ মার্চ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ অংশগ্রহণে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এসময় সর্ব মোট ৫৪ লাখ ১২ হাজার ৪১৬টি পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়। এ সহযোগিতার আওতায় মোট ২ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৪ জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া ড্যাব, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও দলের নেতাদের কয়েক লাখ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও পিপিই বিতরণ করেছেন।

  গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ বাম জোটের

এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (২৫ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৬১৬২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৬ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৩ ।  গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৯টি। শনাক্তের হার ২১.৯২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮২৯ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫১ হাজার ৪৯৫ জন। সুস্থতার হার ৪০.৬৭% এবং মৃত্যুর হার ১.২৮ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ৩২ জন ও নারী ৭ জন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১-৪০ একজন, ৪১-৫০ সাতজন, ৫১-৬০ ৯ জন, ৬১-৭০ ১২ জন এবং ৭১-৮০ সাতজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন এবং বাড়িতে ১১ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৬৪৫ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৩৭৪ জনকে।

আমাদের বাণী ডট কম/২৫ জুন ২০২০/পিপিএম