ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  করোনাভাইরাসে প্রাথমিক শিক্ষার ২৪১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ৪৩ জন সুস্থ হয়েছেন। প্রায় ৫০ জন মুমূর্ষু অবস্থায়। গতকাল বুধবার একদিনে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হলেও এদিন মোট পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন।

  • গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২০)  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) ওয়েবসাইটে করোনা আপডেট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক বলে দাবি করেছেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, অনেকে সামাজিক ভীতির কারণে উপসর্গ নিয়ে বাসায় চুপচাপ থাকছেন, কোনো ধরনের পরীক্ষা করছেন না। এ কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা উঠে আসছে না বলে জানান।

  • দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ করে ডিপিই’র ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্য আপডেট করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রাথমিকের ১৯১ জন শিক্ষক, ২৬ জন কর্মকর্তা, ১২ জন কর্মচারী ও ১২ জন শিক্ষার্থীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। পর্যাক্রমে এ পর্যন্ত ৪৩ জন সুস্থ হয়েছেন। সুস্থদের মধ্যে ৩০ জন শিক্ষক, পাঁচজন কর্মকর্তা, কর্মচারী দুজন ও ছয়জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

দেখা গেছে, আক্রান্তকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫, চট্টগ্রামে ৭০, খুলনায় ৯, বরিশালে ১৫, সিলেটে ২৬, রংপুরে ৯ এবং ময়মনসিংহে ৮ জন রয়েছেন। এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. জোবায়দুর রহমানের কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

  • জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের অবস্থা মুমূর্ষু। নিজ উদ্যোগেই নানাভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। নিম্ন বেতনের প্রাথমিক শিক্ষকরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বড় ধরনের সংকটে রয়েছেন। অনেকের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্ত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়া হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের নানা ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারো চিকিৎসকের পরামর্শ লাগলে সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষক কোভিড-১৯ আক্রান্ত, তাদের বেশিরভাগই নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন কয়েকজন। তবে সম্প্রতি প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্তের তথ্য সংগ্রহ কাজ শুরু করে ডিপিই। প্রতিদিন এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ২৪ ঘণ্টা পরপর ওয়েবসাইটে তথ্য আপডেট করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (১৮   জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৩৪৩  জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩হাজার ৮০৩ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জনে।‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৭৫ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৪০ হাজার ১৬৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৩৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ১ হাজার ৩৪৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। মৃত্যু বিশ্লেষণে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী ৭ জন। মৃত ব্যক্তিদের  মধ্যে  ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন, বরিশাল বিভাগে ১ জন,ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ২৪ জন এবং বাসায় ১৮ জন মারা গেছে

আমাদের বাণী ডট কম/১৯   জুন ২০২০/পিপিএম 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।