Shadow

কুড়িগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় দেড় লাখ মানুষ পানি বন্দী

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার হোসেন আরিফ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা; জেলায় ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা,দুধকুমর ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই শতাধিক চর ও নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫৬টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। ঘর বাড়ীতে পানি ওঠায় অনেকেই রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় বার ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেছে চরাঞ্চল ও নদনদী তীরবর্তি এলাকার বসবাসকারী মানুষ জন। প্রথম দফা বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই আবারো বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পরেছে তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ধরলা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, দুধকুমর নদীর পানি বিপদ সীমার ৪৭সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার সমান্তরাল রেখায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা নদীর পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার সারডোবে একটি বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। জেলায় ১৯টি পয়েন্টে ভাঙ্গন তীব্ররুপ নেওয়ায় ১১টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

এরমধ্যে টানা ৩ দিনের বন‍্যার বাড়তি পানি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ডে সুইচ গেইট হয়ে বেড়িবাধে পর্যাপ্ত পরিমান পানি ঢুকতে না পারায় পানির প্রচন্ড চাপে (৫ নং ওয়ার্ড) হুচার বালা গ্রামের বাধের রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় দূর্ভোগে পানি বন্দী হয়ে আছে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন বাসী।

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ২০গ্রামের মানুষ। পাঙ্গারচরের অধিবাসী দারোগ আলীর পরিবার ১৭দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছে। নীচু এলাকায় বাড়ি হওয়ায় প্রথমদফার বন্যার পানি উঠোনে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পরে সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। দারোগ আলী (৪৫) ও তার স্ত্রী হালিমা (৩৫) জানান, আমার পরিবারে ছোট ছোট ৭ টি সন্তান। বন্যার কারণে ১৭ দিন ধরে ঘর ছাড়া। প্রথম দফায় ১০ কেজি চাল পেয়েছি। তা শেষ হয়ে গেছে। এখন নাবালক শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আপনারা একটু দেখবেন।

  বালিয়াকান্দিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভা

মহাসড়কে আশ্রয় নেয়া শহিদুল (৪৫) ও তার স্ত্রী মেরিনা (৩৪) জানান, প্রথম দফা বন্যায় বাড়ি ছেড়ে ১০দিন এখানে ছিলাম। পরে পানি নেমে গেলে বিধ্বস্ত বাড়ি ঘর ঠিক করে দুটো রাত ঘুমুতে না ঘুমুতে আবার বন্যা। কামকাজ নাই। কেউ ত্রাণও দিল না। এখন কার কাছে হাত পাতি।

এখানকার বয়োজ্যেষ্ঠ আনোয়ারা জানান, ছবি তুলি কি হইবে। হামারগুলাক কাঁইয়ো কিছু দেয় না। এটে কাঁইয়ো খোঁজ খবর নিবারো আইসে না।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে বীজতলার। এই পানি বেশিদিন অবস্থান করলে বীজতলাসহ বন্যা কবলিতরা খাদ্য সমস্যায় ভুগবে। এই মূহুর্তে বন্যা কবলিতদের উদ্ধারসহ ত্রাণ সহায়তা দরকার।

এদিকে ধরলার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চর ও সদর উপজেলার সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। একইভাবে তিস্তার ভাঙনে দলদলিয়া ইউনিয়নের সরদারপাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভাঙনের কবলে পড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৪শ’ মে.টন চাল, ৮লাখ জিআর ক্যাশ, ২ লাখ টাকার শিশু খাদ্য, ২ লাখ টাকার গো-খাদ্য এবং ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা দ্রুত বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হবে।

আমাদের বাণী ডট কম/১৪ জুলাই  ২০২০/পিপিএম

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •