খোকসায় করোনা উপসর্গ নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে

হুমায়ুন কবির, কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতা;  করোনা উপসর্গ থাকায় জেলার খোকসায় ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ ফেরত দুই পোশাক শ্রমিককে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মকছেল আলী মন্ডলের পুত্র হাবিল (৩০) ২৩ মে ঢাকা থেকে জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা নিয়ে বাড়ি ফেরে। সে সাভারের একটি তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিক।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের মন্ডলপাড়ার এই যুবক তিন দিন আগে ঢাকা থেকে নিজের বাড়ি ফিরে আসে।। পরে সে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক প্রকাশ পালের কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে খবরটি জানাজানি হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা ফেরত সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত যুবকের বাড়িতে যায়। বিষয়টি নিয়ে ওই রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলে তাকে হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা।

গত ২৫ মে খোকসার বড়ইচারার আব্দুল কুদ্দুস শেখের স্ত্রী পোশাক শ্রমিক ঝর্ণা বেগম (৫০) করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। করোনা উপসর্গের বিষয়টি স্থানীয় গোপগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানতে পেরে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

গোপগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যন আলমগীর হোসেন বলেন, ঝর্না বেগম নারায়নগঞ্জের একটি তৈরি পোশাক কারখানা শ্রমিক। কর্মরত অবস্থায় তার শরীরে করোনার লক্ষন দেখা দিলে পোশাক কারখানার মালিক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা করান। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল ঝর্নার কাছে নেই। ঈদের নামাজ পরে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছে।

  ঝিনাইদহে চলতি বছরে ধর্ষণের শিকার ২৮ জনের ডাক্তারী পরীক্ষা!

এ ব্যাপারে খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ঝর্না বেগমের বিষয়ে অবগত হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। না মানলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, সন্দেহভাজন করোনা রোগী দুইজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ২৭ মে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা (বহিরাগত বাদে) ৩৫ জন। শনাক্তকৃত ৩৫ জনের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় ১৪ জন, ভেড়ামারা উপজেলায় ২ জন, মিরপুর উপজেলায় ৭  জন, সদর উপজেলায় ৪ জন, কুমারখালী উপজেলায় ৭ জন ও খোকসা উপজেলায় ১জন। ৩৫ জনের মধ্যে  পুরুষ রোগী ২৬ ও  নারী ৯ জন। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতালের ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ১৬ জনের মধ্যে  দৌলতপুর উপজেলায় ৪ জন, ভেড়ামারা উপজেলায় ২, মিরপুর উপজেলায় ৪, সদর উপজেলায় ১ জন, কুমারখালী উপজেলায় ৫ জন এবং বহিরাগত ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ১৮ জন এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন ১ জন।

আমাদের বাণী ডট কম/২৬ মে ২০২০/সিসিপি