টাকার অভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি হতে পারছেন না কাওসার আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বরগুনার আমতলীর কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষক আবু বকর মোল্লা ও শাহিরুন বেগম দম্পতির ছেলে।
২০১৭ সালে চুনাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৪.৯৫ পায় সে। পরে ২০১৯ সালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ লাভ করে।
বাবা-মা না খেয়ে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান কাওসার আহমেদ টিউশনি করে নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে স্বপ্নের বুয়েটসহ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভাবে স্বপ্নের বুয়েটে ভর্তি হতে পারছে না।
মেধাবী কাওসার আহমেদ বলেন, বাবা দরিদ্র কৃষক হওয়ায় সংসারের ব্যয় মিটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। নিজে প্রাইভেট পড়িয়ে যা আয় করেছি তা খুবই সামান্য। নিজের চলা, খাওয়া, খাতা-কলমে চলে গেছে সব। সরকারি কলেজের স্যাররা আমাকে বিনা বেতনে পড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, পরিবারে আরও দুই ভাই পড়াশোনা করে। আমি যে বুয়েটে ভর্তি হব সেই টাকা আমার বা পরিবারের হাতে নেই।
কৃষক বাবা আবু বকর মোল্লা বলেন, আমার সামান্য আয়। তিন ছেলেকে পড়াশোনা করানোর মতো টাকা আমার নেই। ছেলে (কাওসার) নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করছে।
পটুয়াখালী শহরের মুন্সি ক্লোথ স্টোরসের ম্যানেজার মো. হারুন মাতবর বলেন, মেধাবী কাওসার বুয়েটসহ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় সুযোগ পেয়েছে। ও জীবনে অনেক কষ্ট করছে। সে বুয়েটে ভর্তি হতে পারলে ভালো করত।
পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যাপক ধীমান বলেন, কাওসার অনেক মেধাবী। ওর পাশে সমাজের বিত্তবানদের দাঁড়ানো উচিত। সে সুযোগ পেলে সামনে ভালো কিছু করতে পারবে।
কাওসারের সঙ্গে যোগাযোগ- ০১৭৬৬ ১৩২৮২৩ ৫ (ডাচ্-বাংলা)।
