নাম মির্জা জাকির হোসেন (৪৬) ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউপির সর্বমঙ্গলা গ্রামের মৃত মির্জা আলমার হোসেনের ছেলে। ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জা জাকির হোসেনের সাথে কথা হয়, বুকে তার ৪৬ মণ ওজনের মস্ত বড় কষ্টের পাথর চাপা রয়েছে। এই নিঃঠুর পৃথিবীতে আমার সবই আছে ? ভাই বোন স্ত্রী পুত্র কন্যা এখন আর কিছুই নেই আমার। আমি মুক্ত, আমি এই সমাজের অপ্রয়োজনীয় আগাছার মতো খেয়ে না খেয়ে বেচে আছি মাত্র। আমার বর্তমানে মাথা গুজার ঠাই নেই। নেই একটি ঘর। আমার কাছে রোদ,বৃষ্টি, ঝড় আর বর্ষা বাদল সবি সমান। দেশে ম্যালেরিয়া আর ডেঙ্গু জ্বরে অনেকের মৃত্যু ঘটছে। শুধু মরন হয় না আমার ? মির্জা জাকির হোসেন অশ্রু ভেজা নয়নে আরও জানান, আমি মির্জা বংশের সন্তান। আমার চার ভাই ও তিন বোন, আমি যখন স্কুলের ছাত্র সে সময় আমার বাবা আমার দুই ভায়ের নামে অনেক সম্পত্তি দলিল করে লেখে দেন। আমি যখন বড় হলাম, তখন দেখি! অবশিষ্ট যা ছিল সে টুকুও আমার ভাগ্যে নেই। আমার এই পাখির বাসার ঝুপড়ির ১১ শতক বাবার পৈত্রিক জমি থাকলেও নেই মাথা গুজার মতো একটি ঘর। “আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা একটি ঘর”
তার স্বহদর বড়ভাই মির্জা আমির হোসেন জানান, জাকির হোসেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামে বিয়ে করেন। তার এক স্ত্রী, দুই ছেলে, চার কন্যা সন্তান রয়েছে। সে দিনমুজুরের কাজ করে ঠিক ঠাক ভাল ভাবে সংসার জীবন পরিচালনা করছিল। কিন্ত সে বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারনে এবং সংসার বড় হওয়ায় ধীরে ধীরে গভীর দুঃচিন্তায় এক সময় তার মস্তিসকের সমস্যা ঘটে। এর কয়েক বছর পরে তার স্ত্রী সন্তানরা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায় ভেলাজান বাবার বাড়ীতে।
ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়ালপাড়ার একজন পথচারি আব্দুস সালাম জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে মির্জা জাকিরের বাসস্থান এই পাখিঁর বাসা। ‘জমি আছে ঘর নেই’ এই প্রকল্পের আওতাই যোগ্য হয়েও জাকির পায়নী একটি ঘর। তিনি আরও বলেন, পাশদিয়ে বাদামবাড়ীহাট, মোড়লহাট, কুশলডাঙ্গীহাট, বড়পলাশবাড়ী ও বড়বাড়ী ইউপি এবং উপজেলা শহরের পাকা রাস্থা। প্রতিদিন এই পথদিয়ে চলাচল করে হাজারও যানবাহন ও শতশত মানুষ। গত ১ যুগ সময় ধরে এ ভাবেই বসবাস করছে এই অসহায় মানুষটি। মহান সংসদের এমপি, ডিসি,ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য কিংবা উপজেলার অনেক ধর্ণাঢ়্য ব্যক্তিগণ থেকেও কোনদিন কারও চোখে পরেনা, মির্জা জাকির হোসেনের এই করুন অস্থায় বন-বাদাড়ে থাকা নিদারুন কষ্টের দৃশ্য। সুর্য অস্তগেলেই নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। সেখানে জাহারও পোঁকা মাকড়, সাপ বিচ্ছুর বসবাস। দিনের বেলায় একজন সুস্থ্য মানুষের পক্ষে জাকিরের সেই ঝুপড়িতে যাওয়াটা সহজ নয়। পোঁকা মাকড় আর সাপ বিচ্ছুর সাথে বাস করে দেখিয়ে দিচ্ছে, মির্জা জাকির সমাজের চশমাপড়া বাবুরা তাকে দেখতে পায়না।
