পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারনে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ১০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পরেছে। পানিবন্ধি মানুষরা এপর্যন্ত কোন ত্রান পায়নি । বিশুদ্ধ পানি সংকটে তাদের জীবন হাহাকার অবস্থায় । রোগ,শোক আর বিষধর সাপের ভয় তো আছেই ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানিতে মাধবপুর,হরিনবাড়ীয়া,লস্করদিয়া,কৃষননগর,ভবানীপুর,হরিনাডাঙ্গা,চররাজপুর,বিজয়নগর,নারানপুর,আলোকদিয়া,বল্লভপুর, ভাগলপুর,বাগঝাপা,গংগানন্দপুর,কামিয়া,কালুখালী, পাড়াবেলগাছী ও গতমপুর গ্রাম ডুবে গেছে ।

বাড়ীর উঠানে ২ ফুট পানি। তার উপর দাঁড়িয়ে কথা হয় কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হরিড়বাড়ীয়া মৌজার ১ দাগের বাসিন্দা জহুরা বেগমের সাথে। তিনি জানান,বৃহস্পতিবার বাড়ীর আশপাশে কোন পানি ছিলো না। রাতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়ী তরিয়ে গেছে। ঘরে সঞ্চিত খাবার নেই,নেই বিশুদ্ধ পানি। পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটছে। একই কথা বললেন, পশ্চিম হরিড়বাড়ীয়া মৌজার চামেলি

বেগম, জিন্নাহ, আলী, আক্কাসআলী, জহুরুল, হালিম, জব্বার, বাবলু, সিদ্দিক, বান্দু, সেলিম, এলেম, বাতেন, জাহাঙ্গীর, আরব, হারুন, কদম, কামরুল, মজিবর, মজিদ, ভুট্টো,  আলী, আইনদ্দিন, জামাল, সোব্হাান, রাসেদ, আকেল, মালেকা, আলাল, শান্ত, পিন্ট সহ শতাধিক মানুষ একই কথা জানালেন।

কালুখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর মৌজার স্কুল ছাত্রী সাহেবা খাতুন। সে কালুখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী। সাহেবা জানায়,দ্রুত বণ্যার পানিতে বাড়ীঘর রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্কুলে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে। ঘরে সঞ্চিত খাদ্য না থাকায় তাদের পরিবারে চরম খাদ্য সংকট চলছে। একই গ্রামের শরিফা বেগমের ঘরের মাচার নিচে পানি। ৪ সন্তান নিয়ে তিনি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। ওই গ্রামের কনা খাতুন,ইতি আক্তার সবাই একই কথা জানালেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী মনো জানালেন,নারানদিয়া এলাকার ২ শতাধিক পরিবার পানিতে ডুবে গেছে।

রতনদিয়া লস্করদিয়া নারায়নপুর মৌজার বিল্লাল হোসেন বললেন,বৃহস্পতিবার দুপুরে পদ্মা নদীর পানি বিপদ সীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভেবেছিলাম বিপদসীমা অতিক্রম করতে ২/৩ দিন লাগবে।রাতেই তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মাপার থেকে চরাঞ্চল আরো ৩ ফুট নিচু। তাই চরাঞ্চলের কোন কোন যায়গা বণ্যার পানিতে ৪/৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

হঠাৎ বণ্যায় ধান ও পাট ফসল ডুবে যাচ্ছে। কৃষকেরা পাট কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় কৃষকদের পাশাপশি কৃষানীরা পাট কাটতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। হরিনবাড়ীয়া মৌজার গোলাপী বেগম ও সাজেদা বেগমকে পাট কাটতে দেখা যায়। তারা জানায়,ধান তলিয়ে গেছে। পাট যদি ঘরে তুলতে না পারি । তবে না খেয়ে মরতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে কাচি নিয়ে বের হয়েছি। গোলাপী বেগম ও সাজেদা বেগম বললেন,ভাইজান সরকারকে বইলেন, আমাদের খাদ্য সংকট চলছে। সরকার যেন ত্রানের ব্যবস্থা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।