পুলিশ

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে এবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের (অ্যাডিশনাল এসপি) পদায়নের চিন্তাভাবনা চলছে। এ নিয়ে পুলিশ সদর দফতর নীতিগতভাবে অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এর প্রতিবাদ করছেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে তারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যায় কি না সে ব্যাপারেও নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছেন।

গত শুক্রবার বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জরুরি সভা ডেকে বিষয়টি আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে। সদস্যরা এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

থানায় অ্যাডিশনাল এসপি নিয়োগ দেয়ার খবরে নন-ক্যাডার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করলেও এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। এর আগে এএসপি নিয়োগের বিষয়ে একবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখনো নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, থানার ওসি পদে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিয়োগ দেয়া হলে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে। ওসিরা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পরোয়ানা ও আদেশ তামিল করেন। ওসিরা অ্যাডিশনাল এসপি পদমর্যাদার হলে তাদের সাথে মেট্রোপলিটন বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের পদমর্যাদার বিরোধ দেখা দেবে।

তারা জানান, থানায় ওসি পদে অ্যাডিশনাল এসপি ও তিনজন পরিদর্শকের পদ তৈরি হলে সহকারী পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারদের পদায়ন কোথায় হবে। সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার বা জোনের সহকারী কমিশনার পদে কারা থাকবেন, পুলিশ সুপার কারা হবেন সেটাও নির্ধারিত হয়নি।

এ ক্ষেত্রে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিয়োগ হলে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়গুলো আগেই মীমাংসা হওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৭ সালে থানায় অফিসার ইনচার্জ পদে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা বা সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) নিয়োগ দেয়ার প্রথম নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পরে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।

  করোনায় মৃত্যু হলে সাংবাদিক পরিবার পাবে ৩ লাখ টাকা: তথ্যমন্ত্রী

পরে ২০১০ সালের আগস্ট মাসে থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে এএসপি পদমর্যাদার একজন ক্যাডার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তা ছাড়া ২০০৯ সালে অনুমোদন হওয়া ডিএমপির অর্গানোগ্রামে থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পরিদর্শকের পরিবর্তে সহকারী কমিশনার (এসি) বা সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হয়।

পাশাপাশি প্রতিটি থানায় তিনজন করে পরিদর্শক দেয়ার কথাও বলা হয়। পদগুলো হচ্ছে পরিদর্শক প্রশাসন, পরিদর্শক তদন্ত ও পরিদর্শক অপারেশন। পরে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে থানায় এসি বা এএসপি পদায়ন করা হয়নি।

তবে থানায় অফিসার ইনচার্জ পদের পাশাপাশি একজন করে পরিদর্শক তদন্ত ও পরিদর্শক অপারেশন নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে দেশের প্রায় সব থানায় তিনজন করে পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৬ সালে পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের সভায় থানায় এএসপি নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছর পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বিষয়টি ঘোষণা দেয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু নন-ক্যাডার পুলিশ সদস্যদের আপত্তির মুখে ওই ঘোষণা আসেনি। ওই বছরের অক্টোবরে পরীক্ষামূলকভাবে মতিঝিল, শাহবাগ ও গুলশান থানায় একজন করে সহকারী কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়।

কিন্তু নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর রেঞ্জের ২৫ থানায় এএসপি নিয়োগ দেয়া হয়। এ ছাড়া গুলশান থানার তৎকালীন ওসি সিরাজুল ইসলামকে সহকারী কমিশনার পদোন্নতি দিয়ে তাকে ওসির দায়িত্বে রাখা হয়। সিরাজুল ইসলাম ওই সময় পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।

ওই সময় ওসি পদে ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। তাদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হকের সাথে দেখা করে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জননিরাপত্তা বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিবকে গণভবনে ডেকে ওসি পদে এএসপি নিয়োগ না দেয়ার জন্য বলেন। সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *