জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট বর্ণাঢ্য র্যালি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্প মাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় খোকসা উপজেলায় ৪৮ তম হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হল।
খোকসা উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড মৌসুমী জেরীন কান্তা’ র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার -৪ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বাবুল আখতার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, বাঙালি জাতির শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থেকে ও বাঙালি জাতির কল্যাণের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায় মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
জাতির পরাধীনতার শৃংখল মুক্ত করতে যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা চিত্তে স্মৃতি স্মরণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের দেশকে স্বাধীন করার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধাভরে আজকের দিনে স্মরণ করি। জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ আজকের এই খোকসা মুক্ত দিবস বলেও তিনি অভিহিত করেন।
মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির কল্যাণে মনোনিবেশ করতে হবে বিশেষ করে নতুন তরুণ তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা বাস্তবায়নের পথের কাঁটা না হয়ে, নিজেদের মধ্যে হানাহানি পরিহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের মতোঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে তিনি আহ্বান করেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কার সাথে আমরা মারামারি হানাহানি করব সবাই আমরা আমরা। আসুন ঐক্যবদ্ধ হবে জাতীয় কল্যাণে কাজ করি। আবেগাপ্লুত অবস্থায় তিনি জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে দেখতে চান।
সভাপতির বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান কে বিনম্র শ্রদ্ধা এবং জাতি তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন। উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সহ উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা কামনা করে এবং আজকের এই হানাদার মুক্ত দিবসে সকলের জয় নিশ্চিত হয়েছে বলেঅনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
পুরো অনুষ্ঠান অবস্থানকে অন্যান্যবারের মতো এবারও পুলিশের কড়া নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।
