Shadow

নড়াইলে প্রেম করার অপরাধে কলেজ ছাত্র-ছাত্রীকে দোররা মারলেন মসজিদের ইমাম

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নড়াইলের কালিয়ায় প্রেম করার অপরাধে শালিস বসিয়ে দোররা মেরে কলেজ ছাত্র-ছাত্রীকে শাস্তি দিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও জনপ্রতিনিধি। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩জুলাই) রাতে কালিয়া উপজেলার চানপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় শালিশে এ দোররা মারার ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, চানপুর গ্রামের মুস্তাইন মোল্যার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে বর্ষা খাতুনের সাথে একই গ্রামের মরফু মোল্যার কলেজ পড়–য়া ছেলে সজীব মোল্যার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

প্রেম করার অপরাধে শালিসের আয়োজন করেন কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য জামাল মোল্যা। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চানপুর গ্রামের মাহাবুর মোল্যার বাড়িতে শালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে সভাপতিত্ব করেন বিতর্কিত বিল্লাল হুজুর। সেখানে ইউপি সদস্য জামাল মোল্যা, নজরুল মোল্যা, রাজু মোল্যা, চানপুর মসজিদের ইমাম ইমদাদ মোল্যা, মিঠু মোল্যা ও মেয়ের বাবা সহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

শালিসে উভয়কে দোষী সাব্যস্ত করে ১০টি দোররা মারার সিদ্ধান্ত দেন চানপুর মসজিদের ইমাম ইমদাদ মোল্যা ও বিল্লাল হুজুর। ওই দুই ফতুয়াবাজের নির্দেশে মিঠু মোল্যা মেয়েটিকে ১০ দোররা এবং ইমাম ইমদাদ মোল্যা নিজেই ছেলেকে ১০ দোররা মেরে আহত করেন।

শালিস সম্পর্কে ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জামাল মোল্যা বলেন, এলাকার লোকজন ইসলামিক আইন অনুযায়ী প্রেমিক-প্রেমিকাকে শাস্তি দিয়েছে। লোকজনের অনুরোধে তিনি সালিশে ছিলেন। শালিশে দোররা মারার একজন মিঠু মোল্যা জানান, স্থানীয়রা সালিশ বসিয়ে দোররা মারার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে দোররা মারতে নির্দেশ দেন। তাই তিনি কুঞ্চি দিয়ে ১০ টি বাড়ি দিয়েছেন।

  ফুলগাজীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই-বোনের মৃত্যু

শালিশে উপস্থিত রাজু মোল্যা বলেন, ছেলে পক্ষ উভয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মেয়ের চাচা রাজি না হওয়ায় বিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। তাই তাদের দোররা মেরে শাস্তি দেয়া হয়।শালিসের সভাপতি বিল্লাল হুজুর ও মসজিদের ইমাম ইমদাদ মোল্যা ফতুয়া দিয়ে সালিশ বিচার করার পর এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ইমাম ইমদাদ মোল্যা ফতুয়া দেয়ার কথা অস্বিকার করে বলেন, মাদরাসা শিক্ষক বিল্লাল হুজুর ফতুয়া দিয়েছে।

তিনি সেখানে শুধুমাত্র উপস্থিত ছিলেন। দোররা মারার ঘটনায় এলাকায় তোরপাড় সৃষ্টি হওয়ায় এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া হওয়ায় অবস্থা বেগতিক বুঝে মাদরাসা শিক্ষক বিল্লাল হুজুর মোবাইল বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *