একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিক্ষোভ মিছিল পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। রোববার বিকেলে পৌনে ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের পশ্চিম গেটে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে বিকেলে পৌনে ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মূল ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রেসক্লাবের পশ্চিম গেটে আসলে পুলশি তাদেরকে বাধা দেয়। এসময় সেখানে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা ভোট ডাকাতির সরকার মানি না মানবো না, ভোট ডাকাতির নির্বাচর মানি না মানবো না সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন।
এরআগে বিক্ষোভ সমাবেশে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, বর্তমান সরকারকে টেনে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে জনগণের সরকার কায়েম করতে হবে। কিন্তু এককভাবে কোন দল পারবেন না। গলাবাজি করেও পারবেন না। তাই জনগণ, মুক্তিযুদ্ধের সরকার এবং জাতীয় সরকার যদি কায়েম করতে চান তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। আর যত বড় বড় দলই হন না কেনো এককভাবে জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের সরকার উপহার দিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, যে চুরি করে তাকে বলে চোর। আর যে ডাকাতি করে তাকে বলে ডাকাত। আর তারা (আওয়ামী লীগ) সারা বাংলাদেশের ভোট চুরি করেছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ডাকাতদের ধরতে হবে। কারণ ভোট ডাকাতি করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তাই আইনজীবীদেরকে বলব, এই ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আজকে সংসদে ৩০০ সংসদ সদস্য। এর মধ্যে ২৯২ জনই আওয়ামী লীগের। আর বাংলাদেশে পুনরায় অলিখিত বাকশাল কায়েম হয়েছে। আগে হয়েছিল লিখিত বাকশাল। তাই আমরা শপথ নিচ্ছি, যতদিন আমরা বেঁচে থাকবো ততদিন অন্যায় ও অবিচার মেনে নেবো না। যতদিন গণতন্ত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরে না দিতে পারবো, ততদিন আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।
পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যত দ্রুত পারেন পাটকল শ্রমিকদের দাবি মানেন। যদি আরেকটা লাশ পরে তাহলে কার পদ কি সেটা দেখার বিষয় আমাদের থাকবে না।
মান্না আরো বলেন, পাটকল শ্রমিক যদি মারা যায়, আর আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি চলে না যান তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আমরা সামনে আসছি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজকে সবাইকে নিয়ে রাস্তায় থাকলে এই সরকারের পতন হবে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু কারো ওহি ধারা সরকার পরিবর্তন সম্ভব না। বিএনপির উদ্দেশ্য বলতে চাই- ওহির প্রত্যাশায় থাকবেন না, জনগণের সাথে থাকেন, জয় আমাদের হবেই।
খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র হতে পারে জনগণের মাধ্যমে বলেও মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ।
