শিক্ষকের অমানুষিক নির্যাতনে স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের নির্যাতনে মো: হোসেন বাবু (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার সিলেটি পাড়ার মো: শফি আলমের ছেলে ও গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

সরেজমিনে এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সমাপনী পরীক্ষার আগে গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মহিন উদ্দিন খন্দকারের কাছে প্রাইভেট পড়তে না যাওয়ার অপরাধে তিনি মো: হোসেন বাবুসহ আরো কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে কান ধরে উঠবস ও নিল ডাউন করে শাস্তি দেন। এদের মধ্যে মো: হোসেন বাবুকে ৩ শ’র অধিক বার কানে ধরে উঠবস ও দীর্ঘক্ষণ হাঁটুর নিচ দিয়ে কান ধরিয়ে রাখলে সে শাররীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে তার অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের মাদ্রাজে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ জুন রাত সাড়ে ১১টায় ভারতের রাজিব গান্ধী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

  কৃষক বাবলু মিয়ার কান্না যেন থামছেই না!

এ ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো: মহিন উদ্দিন খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলছাত্র হোসেন বাবুকে তেমন কোনো শাস্তি দেই নাই। তাকে কয়েক বার কান ধরে উঠবস করিয়েছি। এর পরেও এলাকার গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় আমার ছাত্রের চিকিৎসার জন্য আমি ১ লাখ টাকা সহযোগিতা করেছি।

গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ১নং ওয়ার্র্র্র্ড সদস্য মো: আব্দুল হান্নান বলেন, এ ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে ওই ছাত্রের চিকিৎসার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

মহালছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার দীপিকা খিশা বলেন, প্রধান শিক্ষক মো: মহিন উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে ছাত্রকে শাররীকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। শুনেছি স্কুলছাত্রটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নুর আলম জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *