ঘূর্ণিঝড় ফণী ও সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের সাত শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবকাঠামো এবং ভূমি ক্ষতি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিপিই সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলে ফণীর তাণ্ডবে শতাধিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ফণীর পর বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিতে আরও তিন শতাধিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ডিপিই পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপ-পরিচালক নুরুল আলম বলেন, ফণীতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পড়া, মাটির তৈরি ঘর ভেঙে পড়া, ক্লাস রুমের ভেতরে পানি ঢুকে মেঝের ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ফণী ছাড়াও বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড়ে আরও তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে। গত তিন মাসে চার শতাধিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ কর্মকর্তা আরও জানান, সাধারণত যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এজন্য কোনো দুর্যোগে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ডিপিই সেভাবেই কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো মেরামত করতে ইতোমধ্যে ১০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ইইডি ইতোমধ্যে উপকূলীয় জেলায় ২৯৯টি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার তালিকা তৈরি করে এগুলোর সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটির প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী ২৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ইইডি’র পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
