Shadow

ফলন ভালো: দাম পাচ্ছেন না পেয়ারা চাষিরা

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পিরোজপুর সংবাদদাতা; জেলার  নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানায় জমে উঠেছে পেয়ারার ভাসমান হাট। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পেয়ারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কুড়িয়ানার পেয়ারার বাগানগুলোতে এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমী এই ফল সংরক্ষণ করা গেলে এ থেকে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পেয়ারা ব্যবসায়ীরা।

তবে পেয়ারার ভালো ফলন হলেও এ বছর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা।

স্থানীয় পেয়ারা চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পেয়ারার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে প্রতি মণ ৮ থেকে ৯ শ’ টাকা করে বিক্রি করলেও এখন প্রতি মণ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র দুই থেকে আড়াইশ টাকা দরে। গাছ থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করার জন্য শ্রমিককে দৈনিক ৫/৬ শ টাকা করে মজুরি দিতে হয়। আর একজন শ্রমিক দৈনিক ২/৩ মণ পেয়ারা সংগ্রহ করতে পারে। তাই পেয়ারার এখন যে দাম তা দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও হচ্ছে না।

স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রায় আড়াইশ বছর পূর্বে পূর্ণ চন্দ্র মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি ভারতের গয়া থেকে একটি পেয়ারা এনে পিরোজপুরের নেছারাবাদে রোপণ করেন। যা স্থানীয় ভাবে গয়া বা গইয়া নামে পরিচিত। এই নেছারাবাদ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের পেয়ারার চাষ করে আসছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠী, কঠুরাকাঠী, আলতা, সৈয়দকাঠি, ইন্দ্রে ও পূর্ব জলাবাড়ীসহ প্রায় ২৬টি গ্রামে পেয়ারার চাষ হয়। উপজেলার পেয়ারা বাগানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ বলেন, ‘এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২৬টিরও বেশি গ্রামের ৬৫৭ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে দুই হাজারেরও বেশি পেয়ারার বাগান রযেছে। আর প্রায় সাড়ে ১২শ পরিবার পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানে পেয়ারার মাধ্যমে চাষিরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।’

  বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিরা বাগান থেকে কাঁচা-পাঁকা পেয়ারা সংগ্রহ করে বিক্রি করতে নৌকায় করে আনছেন স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে। উপজেলার পশ্চিম কুরিয়ানা, জিন্দাকাঠী, আটঘর, আদমকাঠী, ব্রাহ্মণকাঠী, আতা, কঠুরাকাঠী, ঝালকাঠী, মাদরা, ঝিনুহার বাজারে পেয়ারার ভাসমান হাট বসে। সকাল ৭টায় বসা হাটগুলোতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পেয়ারা বেঁচা-কেনা হয়। পাইকাররা স্থানীয় এসব বাজার থেকে তা ক্রয় করে ট্রলার, লঞ্চ, ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেন।

শিক্ষিকা লিপিকা মন্ডল অর্পিতা বলেন, ‘এখানকার পেয়ারা অন্যসব অঞ্চলের পেয়ারার থেকে খেতে সুস্বাদু , তাই এ অঞ্চলের পেয়ারার চাহিদা ভিন্ন ধরনের।’

কুড়িয়ানার ভদ্রাংক গ্রামের পেয়ারা চাষি সুনীল চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পেয়ারায় ভালো দাম পাই না। এ কারণে ধীরে ধীরে এখানকার চাষিরা পেয়ারা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।’

খুলনা থেকে পেয়ারা কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে থাই পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের পেয়ারার চাষ হলেও পিরোজপুরের আটঘর কুরিয়ানার পেয়ারার চাহিদা ভোক্তাদের কাছে খুবই বেশি।’

স্থানীয় চাষি বিধান কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পেয়ারার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাই সরকারের কাছে স্থানীয় চাষিদের দাবি দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্নত করে এটি একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার।’

আমাদের বাণী ডট কম/১৮  জুলাই ২০২০/পিপিএম

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •