দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসে গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১৭ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। অভিমান কিংবা নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে যে কোনো মানসিক জটিলতায় এ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা।
এদের মধ্যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা কলেজের দুই ছাত্রীর আত্মহত্যা করেছেন।
গত ৮ জুন ছারপোকা মারার ওষুধ খেয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র রাসেল হোসাইন।
গত ২৯ আগস্ট আত্মহত্যা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) জারমিন আক্তার জুঁই।
অক্টোবর ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বকুল দাশ।
গত ২৮ অক্টোবর আত্মহত্যা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড বয় ফিরোজ কবির। মাস্টার্সে ৭ম হওয়ায় গত ১৪ জানুয়ারি আত্মহত্যা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের ফার্স্টক্লাস ফার্স্টবয় (অনার্স পর্যন্ত) তাইফুর রহমান প্রতীক।
বউ-শাশুড়ির অপমানে গত ৭ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নববিবাহিত ছাত্র রবিউল আলম।
রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্টবয় সবুজ মিত্র আত্মহত্যা করেছেন ২৯ মার্চ। জন্মদিনে উইশ না করায় গত ২২ এপ্রিল আত্মহত্যা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী প্রিয়াংকা সাহা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হংস প্রসাদ হিমু গত ১০ জানুয়ারি ফেইসবুকে লাশের ছবি পোস্ট করে আত্মহত্যা করেছেন।
৪ অক্টোবর আত্মহত্যা করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিব ভুঁইয়া। ফেইসবুকে স্ট্যাটাসের পর গত ৮ জুন আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সঞ্জু দেব।
প্রেমের কারণে বাবা-মা বকা দেয়ায় গত ১ জুলাই আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রায়হান উদ্দিন সজিব। ঝগড়া শেষে গত ২০ আগস্ট আত্মহত্যা করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসকিয়া নুহাশ।
গত ৪ জুন নিজ বাসা থেকে শুভ্র জ্যোতি টিকাদার নামে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। অনার্স পরীক্ষায় তিন বিষয়ে ফেল করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রী মনিজা আক্তার মিতু আত্মহত্যা করেছেন ১৬ জুলাই। এছাড়া গত ২১ এপ্রিল রাতে বয়ফ্রেন্ডকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ইডেন কলেজের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘা।
সর্বশেষ ২৭ নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্টক্লাস ফার্স্টবয় আবদুল্লাহ আল নোমান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ওই ছাত্র বিভাগে ফার্স্টবয় ছিলেন। গত ২৭ নভেম্বর রাতে মেস থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়।
