শেখ মামুন, রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা; দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়া ঘাট। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে কয়েক হাজার যানবাহন ও লক্ষ লক্ষ যাত্রী নদী পারাপার হয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলমান লকডাউনের কারণে যদিও যানবাহন ও যাত্রী পারাপার সীমিত করা হয়েছে। তারপরও থেমে নাই জরুরী পন্যবাহি ও ব্যক্তিগত ছোট যানবাহনের সাথে যাত্রী পারাপার। গার্মেন্টস খোলার সুবাধে গত কয়েকদিন সামাজিক দূরত্ব না মেনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে গাদাগাদি করে পারাপার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের মতোই মানুষ চলাচল করছে। গায়ে গা লাগিয়ে চলাচল দেখে বোঝার উপায় নেই মানুষের মাঝে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভীতি রয়েছে। একদিকে যাত্রীরা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছে, অন্যদিকে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন মার্কেট খোলার ঘোষণা দেয়ায় ঢাকামুখী মানুষের চলাচল বেড়েছে। কর্মমুখী মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌ-পথ পার হয়ে।
আজ বৃহস্পতিবার (০৫ মে ২০২০) সকাল ১০টায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকায় কর্মমুখী শতশত মানুষ হচ্ছে ফেরি পারাপার হচ্ছে গাদাগাদি করে। আবার ঢাকা থেকে শতশত যাত্রী ঘরমুখী হচ্ছে। এ সময় ফেরিঘাটে যাত্রীদের মাঝে কোন সামাজিক দূরত্ব নিয়ে চলতে দেখা যায়নি। বরং ফেরিতে ওঠা-নামার সময় যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
এদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর কোন সদস্যকে ফেরিঘাট এলাকায় আজও দেখা যায়নি। এতে জনসাধারণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি।
এ নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে প্রায় দুইমাস ধরে। স্বল্প পরিসরে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ থেকে ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হত। এখন করোনাভাইরাসের কারণে তা সীমিত আকারে ৬ থেকে ৭টি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। ফেরিগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাক ও এ্যাম্বুলেন্স নদী পারাপার হচ্ছে। সেইসাথে যাত্রীরা দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ জানান, এই রুটে বর্তমান ২টি রোরো (বড়) ফেরি ও ৪টি ইউটিলিটিসহ (ছোট) মোট ৬টি ফেরি চলাচল করছে পণ্যবাহী ট্রাক ও এ্যাম্বুলেন্স পারাপার করার জন্য। বিকালে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলে ফেরির সংখ্যা ও বাড়ানো হয়।
তিনি জানান, যানবাহন পারাপারের সময় প্রতিটি ফেরিতে শতশত যাত্রী নদী পারাপার হচ্ছে। ফেরি চলাচল করলে যাত্রী পারাপার করবে, তা রোধ করা সম্ভব নায়। যাত্রী পারাপার নিয়ন্ত্রণ করে ঘাট ইজারাদার এ পুলিশ প্রশাসন। এতে বিআইডব্লিউটিসির কিছু করার নেই।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২০) দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) আরও ৩ কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল প্রথম এই ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ২ কর্মচারীর করোনা ধরে পরে। অর্থ্যাৎ এই ঘাটের পাঁচ কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত। এর পর গতকাল বুধবার (০৬ মে ২০২০) ঐ পাঁচ কর্মচারীর মেসে রান্নার বোয়ার করোনা শন্তাক্ত হয়। এ নিয়ে ঘাট সংক্রান্ত ৬ ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে।
জেলায় অনির্দিষ্ট কালের লকডাউনের মধ্যে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঘাট পার হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার সাধারণ মানুষের। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়েই তাদের ঘুমাতে যেতে হয় এমনকি এই আতঙ্ক নিয়েই তাদের ঘুম ভাঙ্গে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০৭ মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৭০৬ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১৩০ জন। সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯১০ জন।
আমাদের বাণী ডট/০৭ মে ২০২০/পিবিএ
