Shadow

রাশিয়ার ভ্যাকসিনে করোনা থেকে সুরক্ষা

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;   বিশ্বজুড়ে মহামারি সৃষ্টি করা নভেল করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে বসে নেই বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্টরা। রাশিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের দেশে তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ‘কার্যকর ও নিরাপদ’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মস্কো ভিত্তিক ইংরেজি পত্রিকা দ্য মস্কো টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে যে ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবকের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল, তারা সবাই এখন করোনা থেকে সুরক্ষিত।

করোনার কোনো চিকিৎসা আবিষ্কৃত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনকেই মহামারি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বে শতাধিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে অল্প কয়েকটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

১২ জুলাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে শেষ করেছে তারা। বুধবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ই-মেইল বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি সামরিক হাসপাতালে প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবীকে ২৮ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভ্যাকসিন প্রয়োগের ২৮ দিন পরে ওই স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ সব লক্ষণই স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই ছিল। তাদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতিকর কোনো প্রভাব বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়নি। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এখন ‘আমরা জোর দিয়ে এটা বলতে পারছি, এই ভ্যাকসিনটি নিরাপদ।’

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে শ্বেতলানা ভোলচিকিনা নামে এক গবেষক দাবি করেছেন, ওই স্বেচ্ছাসেবকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো কাজ করছে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। ওরা সকলেই এখন করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত।

দ্বিতীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ওপরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় গত ২৩ জুন। তারা এখন ওই সামরিক হাসপাতালেই আইসোলেশনে রয়েছেন। পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন চিকিৎসক-গবেষকরা। রাশিয়া আশা করছে, জুলাই মাসের শেষ নাগাদ তাদের ভ্যাকসিনের সামগ্রিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হয়ে যাবে।

  ভারতের সংবিধান ছিড়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে গেলেন কাশ্মীরি নেতা

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনের সর্বশেষ (১৬ জুলাই ২০২০)  দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২  হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জনে আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ৪৯৬ জন। ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি পরীক্ষাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪৮টি। আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৮৮৯টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২৯১টি। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ৭৩৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জন। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।’  ‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৬৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৩৯ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ২ হাজার ৪৯৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। মৃত্যু বিশ্লেষণে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী ৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন পুরুষ ১ হাজার ৯৭১ জন এবং নারী ৫২৫ জন।’

আমাদের বাণী ডট কম/১৬  জুলাই ২০২০/পিপিএম

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •