Shadow

রোহিঙ্গাদের জন্য হয় নাগরিকত্ব, নয় আলাদা রাষ্ট্র দিতে হবে: মাহাথির

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্ব অথবা আলাদা রাষ্ট্রগঠনের সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

চার দিনের সফরে আংকারায় গিয়ে শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের কয়েকটি সীমানা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ব্যাপকভাবে হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনী ওই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে।

নৃশংতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, যারা বিভিন্ন সময় নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসে। এছাড়াও মালিয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডেও বেশ কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংকট সমাধানে মিয়ানমার প্রশাসনের উপর আন্তর্জাতিক চাপপ্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ রাখাইন রাজ্যে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মাহাথির বলেন, “মালয়েশিয়া সাধারণত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে এক্ষেত্রে গণহত্যা বা গণহত্যা জড়িত। মালয়েশিয়া গণহত্যা এবং মিয়ানমারের নাগরিক বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে। সুতরাং, রোহিঙ্গারাও যে মিয়ানমারের নাগরিক তার স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের বিষয়টির নিষ্পত্তি করা দরকার।

“মিয়ানমার অবশ্যই একসময় অনেকগুলি আলাদা রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা মিয়ানমারকে এক রাষ্ট্র হিসাবে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে অনেকগুলি জাতিগোষ্ঠী বার্মা নামক রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু এখন অবশ্যই তাদেরকে নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করতে হবে অথবা নিজেদের রাষ্ট্র গঠনের জন্য তাদেরকে আলাদা অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও বিতাড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আদালত কেবল তখনই কাজ করতে পারে যখন কোনো বিষয়ে বিবাদমান পক্ষ আদালতের অনুসন্ধানগুলি মেনে নিতে রাজি হয়।

  ধর্ষকদের যৌন সক্ষমতা নষ্ট করে দেবে ইউক্রেন

তিনি বলেন, “আইসিজে যদি একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সে সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করবে না। সুতরাং, আইসিজের পদ্ধতিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমাদের মিয়ানমার সরকারের বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।”

১৯৯৭ সালে ১৭ জুলাই রোম সংবিধি গৃহীত হওয়ার পর ১২০টি দেশের স্বীকৃতি নিয়ে ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু করে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো ঘটনায় দোষীদের অভিযুক্ত করে থাকে এই আদালত। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র হলেও মিয়ানমার এর সদস্য নয়।

তবে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সদস্য রাষ্ট্র না হলেও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ঘটনার বিচারে কোনো সমস্যা হবে না।

আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে সাক্ষাত্কারে রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকট, চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুসলিম বিশ্বের এপ্রবীণ রাজনীতিবিদ।

চীনে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের দুর্ভোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে ড. মাহাথির বলেন, মালয়েশিয়া সব সময়ই সমঝোতা, আইনের মাধ্যমে সব বিরোধ মিটিয়ে ফেলার পক্ষে পরামর্শ দেয়।

তিনি আরো বলেন, চীনকে আমাদের বলা উচিত এসব মানুষকে নাগরিক মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে সেরকম ব্যবহার করতে। যদিও তাদের ধর্ম আলাদা, এর উপর ভিত্তি করে তাদের সঙ্গে অন্যরকম আচরণ করা উচিত নয়। যখন আপনি সহিংসতা বেছে নেন, তখন সুষ্ঠু সমাধান অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এমন কোনো ঘটনা নেই যেখানে সহিংসতা ভাল কিছু অর্জন করেছে। আনাদোলু।

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *