নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; বিশ্বব্যাপী দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই যেন বিদ্যুতের গতিতে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। সাথে লাশের মিছিলও হচ্ছে বড়। সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৩৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন।শিক্ষার্থীদের এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গত ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু ক্রমেই এই ভাইরাসটির সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সব সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে এমনকি আজ থেকে মানুষের জনসমাগম এড়াতে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ানো যায় কি না সে লক্ষে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একবারে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা না হলেও মূলত ঈদুল ফিতরের পর ছাড়া আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুই মন্ত্রণালয়েরই একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।
নতুন করে আজ মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা আসছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, গতকাল সোমবার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে। তাই আজ ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বৈঠকের আয়োজন করেছে।
এই বৈঠক শেষে সম্মিলিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে জনসমাগম এড়াতে আর সংবাদ সম্মেলন করতে চায় না উভয় মন্ত্রণালয়। তাই এই ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, সরকার ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পড়বে। তবে ৪ এপ্রিলের পর কী হবে সে ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর যা সিদ্ধান্ত আসে তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের আগে চিন্তা ছিল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার। যেহেতু ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে সম্মিলিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। মঙ্গলবারই এ ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুসারে রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বেশ কিছু ছুটি মিলিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে শবেবরাত, স্টার সানডে ও পহেলা বৈশাখের ছুটি রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটি বাদে ৪ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৪ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তাই করোনাভাইরাস রোধে এই ১৪ দিনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে চায় উভয় মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নয়ন হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ঈদুল ফিতরের আগে আর খুলছে না বলে জানা যায়।
দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকতে পারে বিধায় এরই মধ্যে টিভিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাস সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। কিছু বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে লেখাপড়া আদান-প্রদান শুরু করেছে। অনেক স্কুল থেকে অভিভাবকদের ফোন দিয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করাতে বলা হয়েছে। এমনকি স্কুল খুললেই পরীক্ষায় বসতে হবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৩৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাঁচজন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৫ জন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনের দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৩ জনের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৫ জন আক্রান্ত হন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাদারীপুরে ১০ জন, নারায়ণগঞ্জে তিনজন, গাইবান্ধায় দুজন, কুমিল্লায় একজন, গাজীপুর ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ ২০২০) বিকেলে করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।
আমাদের বাণী ডট কম/২৪ মার্চ ২০২০/টিএ
