নোয়াখালীর সেনবাগে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকাবাসী পিটিয়েছে ভারসাম্যহীন এক নারীকে,পাথর ছুঁড়ে ভেঙ্গেছে মাইক্রোবাসের গ্লাস।
শনিবার সকাল ১০টা শিশুর নানী খায়রুন্নেছার কাছে ছিল শিশুটি। ৯ মাসের শিশুটিফেনীর দাগন ভুঁইয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন এর পুত্র। শিশুর পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন।রিয়াদের মা মঞ্জু আরা বেগম বয়স ২২, তাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছে মায়ের বাড়ি মধ্য মোহাম্মদপুর সেনবাগ।
মানসিক ভারসাম্যহীন জীর্ণ,শীর্ণ রোগা ক্ষীনকায় বয়স আনুমানিক চল্লিশ এক মহিলা ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে কোলে নেয়,তখন শিশু রিয়াদ মেঝেতে খেলা করছিলো,নানী ছিল খাটের উপর , হঠাৎ লক্ষ্য করেন নাতি নেই মেঝেতে ,বাইরে তাকাতেই দেখতে পান শিশু রিয়াদ অন্যের কোলে।
নানী খায়রুননেছা আওয়াজ দেন “এই বেডি নাতি লই কোনাই যাছ”।আওয়াজে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এক মহিলা, বেরিয়ে এসেই আওয়াজ দেয় “হোলা চোর নি কোন “মানে ছেলে ধরা নাকি।মুহুর্তেই মানুষ জড় হয়, ছেলে ধরা ভেবে প্রহার করতে থাকে।
এর মাঝে খবর চলে আসে সেনবাগ থানায়। ওসি মিজানুর রমানের নির্দেশে সাব ইনসপেক্টর তানভীর আহাম্মদের নেতৃত্বে একটি প্রাইভেট মাইক্রো ( চট্ট মেট্টো চ-১১-৩৫৫৩) নিয়ে মধ্য মোহাম্মদপুর ঘটনা স্থল ভুইয়াদিঘি দোলত বাড়ি, সি এন জি ফিলিং এর পেছনে, চৌমুহানী – ফেনী সড়কের কাছে পৌছান।
তখনো ভারসাম্যহীন মহিলার উপর চলছিলো মারধোর। পুলিশ মহিলাকে উদ্ধার করে গাড়িতে উঠানোর সময় উৎসুক উগ্র জনতা মহিলাকে দিতে চায়না।তারা মহিলাকে মেরে ফেলতে চায় এবং গাড়ির পেছনের গ্লাসে পাথর ছুড়ে।গ্লাসটি ভেঙ্গে যায়। সন্দেহভাজন নারীকে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে থানায়,গাড়িটি এখন থানায় আছে শিশুর মা,শিশুর বাবা মোয়াজ্জেমের নাম,ঠিকানা,ফোন নং রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
ভারসাম্যহীন মহিলা,কখনো নিজের নাম খাদিজা,কখনো জামিলা,কমলা বলছে অস্পষ্ট ভাবে।স্বামীর নাম বলেনা,শুধু বলে কালো,আছে থানা হেফাজতে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি,থানা থেকে ঘ একটি ইমেইল/ বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।
ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন,মহিলাটিকে ভারসাম্যহীন মনে হচ্ছে,নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছেনা।আরো খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।জনগনকে আরো সচেতন হতে হবে।সজাগ থাকতে হবে।আইন হাতে নিয়ে মারধোর না করে পুলিশে খবর দিতে হবে।পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে জনতা ইহা দুঃখ জনক।গুজবে কান দিয়ে , অহেতুক আতংক না ছড়াতে যে কোন প্রয়োজনে পুলিশে খবর দেয়ার অনুরুধ জানিয়েছেন।
