সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারকে আদালতের আদেশ অবমাননার দায়ে হাইকোর্ট নোটিশ দিয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি অবগত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করায় মামলার বাদী গাউস-উল-আযম ফারুকী জানান, আমার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনে লিফট বসাতে নকশা সংশোধনের জন্য পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার বরাবর আবেদন করা হয় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ। কিন্তু পৌর মেয়র আমাকে সাফ জানিয়ে দেয় যেহেতু পৌরসভার ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর শাহিন আকতার শাহিন ও আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা (বাদী) মামলা বিচারাধীন আছে। একই সঙ্গে ওই ভবনের পূর্বের নকশাও বাতিল করা হয়েছে। সেজন্য সংশোধিত নকশার অনুমোদন দেয়া সম্ভব নয়।
ফলে এ বছরের ৩ এপ্রিল সংশোধিত নকশার বিষয়ে হাইকোর্টে ২৬৫১ এর রিট পিটিশন দায়ের করি। পিটিশনের শুনানী শেষে রুলনিশি জারি করেন মহামান্য হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারক বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজ্জাক আল-জলিল। বিচারকদ্বয় তাদের জারিকৃত রুলনিশিতে পত্র প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধিত নকশা অনুমোদনের আদেশ দেন পৌর মেয়রকে। কিন্তু পৌর মেয়র উচ্চ আদালতের এই আদেশকে আমলে নেননি। ফলে গত ১২ মে আদালতের আদেশ অবমাননার দায়ে হাইকোর্টে ফের ৪৮৯২ নং রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন উচ্চ আদালতের আদেশ মানা হয়নি তা জানতে চেয়ে রুলনিশি জারি করা হয়। এরপরও আদালতের এ আদেশের জবাবদানে বিবাদী পক্ষ বারবার সময়ের আবেদন করে কালক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষ আদালত জবাবদানের দিন ১৭ নভেম্বর ধার্য করে দিয়েছেন। আদালতের এ বিষয়টি অবগত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী তার অভিযোগে আরো জানান, ওই ছয়তলা ভবন নির্মাণের শুরুতে প্রধান ফটক নির্মাণ করে দেয়ার কথা বলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আল মামুন সরকার তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেয়। অথচ দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও ওই কাউন্সিলর ফটক নির্মাণ করে দেয়নি। পরে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে কাউন্সিলর আল-মামুন সরকারের সঙ্গে অপর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিন আকতার শাহিন মিলে বাধা প্রদান করে। এ ঘটনায় ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশের সিআইডি বিভাগ। মামলাটি তদন্ত করে উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা মিলে। এ কারণে ওই কাউন্সিলরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়। এর ফলে ওই দুই কাউন্সিলর ক্ষিপ্ত হয়ে এই মামলার বাদীর বিরুদ্ধে কালো টাকার মালিক, জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও হাত কাটা রংবাজ উল্লেখ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন। তাদের এ অভিযোগকে নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ করা হয়। এমতাবস্থায় তিনি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে এ মামলায়েও ওই দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত এবং তারা অভিযুক্ত হয়। বর্তমানে মামলা দুটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে উচ্চ আদালত ও নিন্ম আদালতে মামলা থাকার কারণে মামলার বাদীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের এমন কর্মকান্ডের আইনগত ব্যবস্থ নেয়ার দাবি জানিয়ে মন্ত্রী বরাবরে অভিযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী গাউস-উল-আযম ফারুকি জানিয়েছেন।
এদিকে আদালতের আদেশ না মানার বিষয়ে জানতে পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারের ব্যবহৃত ০১৭৫৮-৬৬৩৬০৬৩ নং মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়ে তার ফোন পাওয়ায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
