Shadow

১০ গ্রেড না পেলে রাজপথ বেঁছে নেবে প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষকরা

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

টাইমস্কেল এবং বেতন ১০ম গ্রেড করাসহ বিভিন্ন জটিলতার দ্রুত নিরসন চান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে এবং দাবি আদায়ে নিজেদের কর্মপরিকল্পনাও ঠিক করেছেন শিক্ষকরা। শিগগিরই দাবি মানা না হলে আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন তারা বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের সূত্র জানিয়েছে, সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে রাজধানীর উত্তরায় শুক্রবার সভায় বসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। মিটিংয়ে টাইমস্কেল সমস্যার সমাধান, বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদ স্থায়ীকরণ, বিদ্যালয়ের সময় সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ পরবর্তী টাইমস্কেলের মামলাসংক্রান্ত আপিল শুনানী দ্রুত নিষ্পত্তির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়াও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ, বেতনস্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নতিকরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ আবেদন করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম বলেন, ‘টাইমস্কেলের ব্যাপারটি সরকারের আপিলের কারণে আটকে আছে। ফলে শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এজন্য এর দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

১০ম গ্রেডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ঘোষণা দিলেও ৫/৬ বছর ধরে এটি ঘোরানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় নানাভাবে টালবাহানা করছে। আমাদের ১০ম গ্রেড দিতে বলা হলেও দিতে চাচ্ছে ১১তম গ্রেড। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণীর সবাই পান ১০ম গ্রেড। প্রধান শিক্ষকদের কোন পদোন্নতিও নেই।’

এই শিক্ষক নেতা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করে আসলেও ১০ম গ্রেড দেওয়া হচ্ছে না। আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন করতে না করছেন। কিন্তু আর কতদিন ধৈর্য ধরে থাকব।’ শিগগিরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মোঃ বদরুল আলম। সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের শিক্ষক নেতারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় মূল বক্তব্য পাঠ করেন মহা-সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেড দেয়ার নির্দেশ দেনন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা দেয়াারও নির্দেশ প্রদান করা হয়।

বর্তমানে সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন)। অথচ নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে বেতন পান।

  'ব্র্যাকের এক শিক্ষক প্রাথমিকের ৪ শিক্ষকের সমান'

পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার গেন্ডারিয়ার মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রুল জারি করেন আদালত। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেন এবং একই দিনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ রায়ের ফলে প্রাথমিকের ৬৫ হাজার ৫৯ জন প্রধান শিক্ষকের ভাগ্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৯ জন প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে এবং ৫০ হাজারের কাছাকাছি পদের প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকদের জন্য ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ আদেশ কার্যকর করার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকদের এসব দাবি এখনো পূরণ হয়নি। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার তাগিদ শিক্ষকদের। অন্যথায় আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *