গোলাম কিবরিয়া,ল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা; করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রায় তিনমাস দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ বন্ধে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম।তাই এ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। অনলাইন ক্লাস তেমনি একটি উদ্যোগ।তবে অনলাইন ক্লাস প্রসঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা মত।এবিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৬ জন শিক্ষার্থীদের ভাবনাগুলো জানার চেষ্টা করেছি

জহির রায়হান, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং

স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে আমরা সব ছাত্রছাত্রীরা মনোযোগী থাকিনা কিংবা সবাই উপস্থিত থাকিনা। আবার আমার মতো অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ই পরীক্ষার আগে কয়েকদিন পড়ে পরীক্ষা দেই।
অনলাইনে ক্লাস হয়ে গেলে সেগুলোর রেকর্ডের ভার্সন আমরা চাইলে সুবিধাজনক যেকোনো সময় ই দেখতে পারবো। যাদের সকল ধরণের সুবিধা থাকবে তারা লাইভ ক্লাসে পার্টিসিপেট করবে অন্যরা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে রেকর্ডের ভার্সন দেখে নিতে পারে। আর শিক্ষক রা লেকচারের সফট কপি সরবাহ করলে সবার ক্ষেত্রে আরো সুবিধে হয় কারণ কারোর ই হাতের কাছে বই নেই।

খাইরুল ইসলাম,মার্কেটিং বিভাগ

আমি মনে করি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের প্রত্যেকটি বিভাগেই অনলাইন ক্লাশ শুরু হওয়া উচিত।একজন বিবিএ’র শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদেরকে অনলাইন প্রযুক্তি সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সিং সহ নানাবিধ অনলাইন কার্যক্রমের সাথে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। সেজন্যে করোনা মহামারীর এই সময়টাকে আমরা একটা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারি।আশা করি দেশে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার শুরুটা এখান থেকেই হবে।

রায়হানুর রহমান,একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস

সার্বিক পরিস্থিতির সাথে তালমিলিয়ে আমাদের ক্লাস করা উচিত। যারা মেগাবাইট আর নেটওয়ার্ক এর দোহায় দিচ্ছে। তারা হয়তো বিষয়টা আমলে নিচ্ছে নাহ যে নিজেকে কতটা পিছনে ফেলে দিচ্ছে এই একটি অজুহাতের দ্বারা। কেউ লাইভ মিস করলেও সেটা পরে দেখার সুযোগ তো থাকছেই। তাছাড়া এ্যাসাইনমেন্ট,ট্রাম পেপারসহ যে সকল বিষয় গুলো একটু বুঝিয়ে দিলেই নিজেরা করা যাবে তা করা হলেও অনেকটা এগিয়ে থাকবে শিক্ষার্থীরা।আশা করি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সকল ডিপার্টমেন্ট সবার আগে অনলাইন ক্লাস শুরু করবে।

সুমন,ব্যবস্থাপনা শিক্ষা

মহামারি কবে শেষ হয় তার কোন নিশ্চিতা নেই যদি আমরা এই মহামারী শেষ হওয়ার আশায় বসে থাকি তাহলে আমাদের প্রায় ৬/৭ মাস সেশনজটে পরতে পারি।আমি মনে করি যদি অনলাইন ক্লাসে আমরা যেতে পারি তাইলে কিছুটা হলেও সেশনজট থেকে রক্ষা পাবো। তা না হলে আমরা অনেক পিছিয়ে যাবো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

এদিকে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী

বোরহানুল ইসলাম ইমন,ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং

অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের স্যারেরা কতটুকু অনলাইন ক্লাস ফ্রেন্ডলি তাও বিবেচনায় নেয়া উচিত। ক্লাসের ভিডিও রেকর্ডিং থাকলে ভাল। তবে সেক্ষেত্রে স্যারেরা সাধারণ ক্লাসের মত আমাদের সাথে ইন্টারেকশন করতে কমফোর্ট ফিল করবে বলে মনে হয় না কারন ভিডিও রেকর্ড থাকলে স্যারেরা মেপে মেপে কথা বলবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পক্ষ কি সব স্টুডেন্ট দের এটেন্ডেন্স নিশ্চিত করতে পারবে অনলাইন ক্লাসে? কর্তৃপক্ষ সবার এটেন্ডেন্স নিশ্চিত করতে পারলে এবং স্যারেরা আগ্রহী হলে সেক্ষেত্রে সম্ভব।

সজিব আহমেদ,মার্কেটিং

আপনারা যারা বিভাগীয় শহর বা সিটি কর্পোরেশনে বাস করে নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত সমস্ত সুবিধা ভোগ করছেন আপনারা কি হাওরাঞ্ছল বা অজপাড়া গায়ের নেটওয়ার্কের খবর জানেন?১ ঘন্টার একটা অনলাইন ক্লাসে প্রায় ১ জিবির মত খরচ হয়/হচ্ছে। একদিনে ২-৩ টা ক্লাস করলে কত জিবি লাগতে পারে কত খরচ হতে পারে?
শহরগুলোতে অল্প টাকায় একমাসের ওয়াইফাই সুবিধা নেওয়া যায়,কিন্তু গ্রাম থেকে এক জিবি অধিক মূল্য দিয়ে কিনে ক্লাস করাটা কষ্টকর।

আমাদের বাণী ডট কম/১৭  জুন ২০২০/পিপিএম 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।