ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনা ভাইরাসের ওষুধ রেমডিসিভির আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে হাতে পাওয়া যাবে যা বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ শনিবার (১৬ মে ২০২০) আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্ধিত ২০০ বেডের করোনা ইউনিট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ওষুধ রেমডিসিভির আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকায় যে রেমডিসিভির ওষুধ তৈরি হয়েছে, আমাদের দেশেও তৈরি হচ্ছে। আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে তা হাতে পাওয়া যাবে। আমরা ভ্যাকসিন নিয়েও কাজ করছি। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পরপরই যাতে আমরা সেটা পেতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সারা দেশে যত লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তার ৮৫ শতাংশ ঢাকা সিটি বা তার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায়। বাকি ৭টি বিভাগ বা ৫৫টি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১৫ শতাংশ। রেড জোন যদি বলি তাহলে ঢাকা সিটি ও এর আশপাশের জেলাকে রেড জোন হিসেবে দেখতে পারেন।
করোনা চিকিৎসায় দেশের সক্ষমতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে কোভিড হাসপাতাল করা হচ্ছে। টেস্টের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের ৪০টির উপরে ল্যাব রয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো ১৪/১৫ টা বৃদ্ধি করা হবে। ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল তৈরি করেছি। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার এবং ছয় হাজার নার্স নিয়োগ করা হয়েছে। যেটা কয়েক মাসেও সম্ভব হত না সেটা মাত্র ১৫ দিনে সম্পন্ন করা গেছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে সর্বশেষ (১৬ মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ছয় হাজার ৫০১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ছয় হাজার ৭৮২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৬৭ হাজার ২৯৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৯৩০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৯৯৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১৪ জনে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৫ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ হাজার ১১৭ জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগের ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুইজন ও রংপুর বিভাগের দুইজন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩৪৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৫১ জনকে।
আমাদের বাণী ডট/১৬ মে ২০২০/পিবিএ
