বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলার আসামী এহেতসামুল রাব্বি তানিমের বাড়ি সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর মুন্সিপাড়ায়। তানিম এসএসসি ২০১৫ এবং এইচএসসি ২০১৭ সালে সৈয়দপুর সরকারি কারিগরী কলেজের ছাত্র ছিল। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সৈয়দপুরের এহতেশামুল রাব্বি তানিমের নাম উঠে আসায় তার বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন হতবাক।
ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় পুত্র তানিম জড়িত থাকায় লোক লজ্জায় পিতা শেখ মো. আবু কাওসার পিন্টু সৈয়দপুরের বাইরে অবস্থান করছেন। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে ঘটনার পরদিন থেকে। শহরের মুন্সিপাড়ার বাড়িতেও পরিবারের কাউকে দেখা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার তানিমের পিতা ব্যবসায়ী পিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে তার ঘনিষ্ঠ ও এলাকাবাসীরা জানায় বাবা মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে তানিম বড়। তার ছোট বোন শহরের একটি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করছে। সূত্রটি জানায়, ওই পরিবারের কেউ কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। কিন্তু তানিম বুয়েটে পড়ালেখা করতে গিয়ে সে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়বে তা কেউ জানতো না। বাবা-মায়ের আশা ছিল ছেলে বুয়েটে পড়াশোনা শেষ করে প্রকৌশলী হবে। কিন্তু সেই বাবা-মায়ের আশায় গুড়িবালি হয়ে তানিম হয়েছে হত্যা মামলার আসামী। আর তার পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের পাশাপাশি মানহানীকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও এলাকার একাধিকজন জানায়, এ হত্যাকান্ড মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। তাই এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করেছে সূত্রটি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সদস্য তানিম তার বন্ধু ফাহাদকে খুনীদের কাছে নিয়ে যায় এবং হত্যার পর তার লাশ সিঁড়িতে ফেলা দেয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়। এ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে সৈয়দপুরের তানিমসহ ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। উল্লেখ্য, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
