নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৪৩২  জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৬৯৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০ হাজার ২০৫ জনে।গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হ‌য়েছেন আরও ৫৮৮ জন। এ নি‌য়ে সুস্থ হ‌য়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ছয় হাজার ১৯০ জ‌নে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২০) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) (বর্তমানে মহাপরিচালকের দায়িত্বে) ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৯৩টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭টি।

নাসিমা সুলতানা আরো জানান, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬ হাজার ১৯০ জন। সুস্থতার হার ২০.৪৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৪৩ শতাংশ।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাড়িতে আটজন ও হাসপাতালে আনার পথে একজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জন, বরিশাল বিভাগে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের তিনজন।

তাদের বয়স বিশ্লেষণে ২১-৩০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১-৫০ দুইজন, ৫১-৬০ পাঁচজন, ৬১-৭০ ছয়জন, ৭১-৮০ দুইজন এবং ৮১-৯০ বছরের মধ্যে একজন।

২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২২৫ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৬২ জনকে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

গতকাল বৃহস্পতিবারের  তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ১০ হাজার ১৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২৬২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ১৪ হাজার ১১৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ৭৭৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৫১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২২ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০৮ জনে।

করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। তবে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। পৃথিবীর ১২০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে মারা গেছে সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। এদিকে ক্রমেই আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ৭ম দফা ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আমাদের বাণী ডট/২২ মে ২০২০/পিবিএ 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।