নিজস্ব সংবাদদাতা, কুড়িগ্রাম; জেলার  রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখায় মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী। কিন্তু এই দুই শিক্ষার্থীকে পড়েোর দায়িত্বে রয়েছেন ৯জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ যাত্রা শুরু করে ১৯৫৬ সালে। কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত হয় ২০০১ সালে। এমপিওভুক্তির প্রথম কয়েক বছর শিক্ষার্থী ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার (০৩ মার্চ ২০২০) দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেযে খোঁজ খবর নিয়ে এ সব তথ্য উঠে এসেছে। শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষকরা প্রতিবছর বসে বসে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। গত ১০ বছর ধরে একই অবস্থা চলছে।

দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ  সূত্রে আরও জানা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের একমাত্র শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম আর বাণিজ্য বিভাগেও একমাত্র শিক্ষার্থী আবু হোরায়রা। সেখানে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ফরিস উদ্দিন, মশিউর রহমান, জাইদুল ইসলাম, গোলাম শহীদ, এসএম মাসুদ আখতার, শহীদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম। ৯জন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন প্রদর্শক। গত ১০ বছরে ওই দুই বিভাগে পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল না।

বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম বলে, ‘আমি ছাড়া ক্লাসে কেউ নেই। অনেকবার ছাড়পত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে চেয়েছি; কিন্তু স্যাররা ছাড়পত্র দেন না। শিক্ষার্থী না থাকায় স্যাররা অনেক সময় ক্লাস নেন না।’

বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী আবু হোরায়রা বলে, ‘আগের বছরগুলোতে এ বিভাগে কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না। স্যাররা অনেক আশা ও ভালো ফলাফলের কথা বলে জোর করে আমাকে এখানে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী না থাকায় একা লেখাপড়া করে কোনো মজা পাই না।’

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে ১০ বছর ধরেই শিক্ষার্থী খরা চলছে। শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না; উপস্থিতির স্বাক্ষর দিয়েই চলে যান। অনেকে আবার এক দিন কলেজে এসে সারা মাসের উপস্থিতির স্বাক্ষর দিয়ে যান।

জানতে চাইলে মানবিক বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্লাস নিই, পরিশ্রম করি। বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা বসে বসে খালি বেতন তোলেন।’

তবে এ বিষয়ে দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি তো জানি বিজ্ঞান বিভাগে দুজন, আর বাণিজ্য বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী আছে। এ বছর শিক্ষার্থী হয়নি, তাতে কী? আগামী বছর ভর্তি হবে! বিভাগ দুটি শিক্ষার্থী শূন্য কখনোই ছিল না।’

আমাদের বাণী ডট কম/০৪ মার্চ ২০২০/ডিএ 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।