আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর বুধবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কোন কোন দিক থেকে এমপিও নীতিমালা সংশোধন বা সংস্কার করা যেতে পারে সে বিষয়ে ১ম সভায় আলোচনা করবে কমিটি।

জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে আছেন। আর বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার উপসচিবকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক মাসের মধ্যে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে। কমিটিতে ননএমপিও শিক্ষক নেতারাও সদস্য হিসেবে আছেন। স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংস্কারের সুপারিশ করবে এ কমিটি।

এছাড়া নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়কে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তবে, কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপট করতে পারবে। জানা গেছে, আগামী ১ মাসের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবেন।

এদিকে আগামীকাল মঙ্গলবার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধনী কমিটির কাছে ১০ দফা দাবি জানাবে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।

সংশোধনের দাবিগুলো হচ্ছে, বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদর অনুপাত প্রথা (৫:২) বাতিল কর সরকারি নিয়ম সহকারী অধ্যাপক পদ পদোন্নতি দিতে হব। ধারা ১১.৪ এ উল্লেখিত পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকদের পূর্বের ন্যায় (২০১০ এর নীতিমালা) ৮ বছর পূর্তিতে ৯ম গ্রেড থেকে ৭ম গ্রেড প্রদান । কোনো কারণ তা সম্ভব না হলে প্রভাষকদর প্রারম্ভিক গ্রেড ৯ এর পরিবর্ত ৮ করে ১০ বছর ৭ম গ্রেড এবং ১৬ বছর ৬ষ্ঠ করা ।

২. নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তির ক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষার্থীর নূন্যতম সংখ্যা ৪০ জন এবং পাসের হার ৭০ শতাংশ বাধ্যতামূলক, এমন কালো আইন বিলুপ্ত করতে হবে।

৩. গভর্নিবডি ও ম্যানজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রী করতে হবে।

৪. অবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদর বদলির নীতিমালা প্রনয়ণ ও তা দ্রুততম সময় বাস্তবায়ন করত হবে।

৫. দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। শিক্ষার গুণগত মানানয়ন বসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা।

৬. নীতিমালার পরিশিষ্ট ঘ এ উল্লেখিত প্রধান শিক্ষক /অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় সহকারী শিক্ষক/ প্রভাষক পদর অভিজ্ঞতা বহাল

৭. সরকারি স্কুল কলেজের গ্রন্থাগারিকদের মর্যাদার মত বেসরকারি স্কুল কলেজের গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের মর্যাদা
দিতে হবে।

৮. ২০০৯ এবং ২০১৩ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকতায় ৮ বছর এবং ১২ বছর দুটি উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে।

৯. ২০১৫ এর পূর্বর ন্যায় সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন ¯বৈষম্য দূরীকরণ করতে হব।

১০. যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় শিক্ষানীতি এবং এমপিওভুক্তি ও জনবল নীতিমালা অনুসার শিক্ষা আইন প্রকাশ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।