জিকরুল হক, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা; ভৌগলিক কারণে জেলার বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুর। এ শহরের আশপাশের কমপক্ষে ১০টি উপজেলার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে। বেচাকেনাও করে এই শহরে। সে কারণে সৈয়দপুরের পাইকারী কাঁচা বাজারটি এ জনপদের মানুষের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পৌর এলাকার ১১নং ওয়ার্ডের নয়াবাজারে পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসার আড়ত গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে পার্বতীপুর, বদরগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, খানসামা, নীলফামারী সদর, চিরিরবন্দর ও তারাগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার চাষি তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সৈয়দপুরের পাইকারী বাজারে বেচতে আসে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকার কারণে আন্তঃজেলার হাজার হাজার খুচরা ব্যবসায়ী কিনতে আসে এ শহরে কাঁচামাল।
সৈয়দপুরের পাইকারী কাঁচা বাজার থেকে কৃষি পণ্য রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ব্যবসায়ীরা কিনতে সৈয়দপুরে ভীড় জমায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাস আতংক বিশ্বব্যাপী বিরাজ করছে। মারা গেছে এ যাবত হাজার হাজার মানুষ। এ থেকে বাংলাদেশের কোন জনপদও বাদ যায়নি। লকডাউনের আওতায় রয়েছে সারাদেশ। সাধারণ নাগরিকদের ঘরে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে জনসমাবেশ। নাগরিকদের ভীড় এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
কোনভাবেই যাতে কোথাও মানুষের জটলা না হয় সে কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক টহলে আছে সেনাবাহিনী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক টহল টিম কাজ করছে। অথচ সৈয়দপুরের কাঁচামালের পাইকারী বাজারটি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠছে। পৌরসভার এই পাইকারী বাজারে যাতায়াতের জন্য দু’দিক থেকে দুটি লেন (শাখা রাস্তা) রয়েছে। এই বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য নেই কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা। বাজারের আসা যাওয়ার দুটি পথে যদি মানুষের শরীরে জীবাণুননাশক স্প্রে করার নেই কোন উদ্যোগ। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে কালাতিপাত করছে।
কথা হয় শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিম সূর্য, বিশিষ্টজন অধ্যক্ষ মো. আবু কাউসার চপল ও মৎস্যজীবী লীগ সৈয়দপুর পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মামুন তালুকদারের সঙ্গে। তারা ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন যে বাজার থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। অথচ সেই বাজারে বেচাকেনা করতে আসা নাগরিকদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে কথা হয় মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পৌর কর্তৃপক্ষকে বলা হচ্ছে।
আমাদের বাণী ডট কম/০২ এপ্রিল ২০২০/পিপিএ
