ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনাভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মসজিদ-মন্দিরসহ অন্যান্য উপাসনালয়ের মাইকে সচেতনতা প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দেশের সব মসজিদের খতিব, ইমাম, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিচালনা কমিটিকে এ বিষয়ে ব্যব্স্থা নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।
- সোমবার (০৮ জুন ২০২০) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,দেশের সর্বত্র মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। এই মহামারি সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকার এবং সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের সব মসজিদ থেকে প্রতিদিন ও জুমার খুতবার সময় মসজিদের মাইকে এবং অনুরূপভাবে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে করণীয় সস্পর্কে প্রচার করা হলে সাধারণ জনগণ এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরও সচেতন হবে।
- মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক থেকে নিয়মিতভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে নির্ধারিত ঘোষণাগুলো আবশ্যিকভাবে প্রচারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও উপাসনালয়ের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ করা হলো।
যেসব ঘোষণা মাইকে প্রচার করতে হবে—
১. আতঙ্কিত না হয়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং করোনা মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করুন। অনুরূপভাবে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন।
২. কিছুক্ষণ পর পর সাবান ও পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড যাবৎ দুই হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
৩. ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরুন এবং চলাফেরা ও সব কাজে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।
৪. অপরিষ্কার হাতে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করবেন না এবং যেখানে সেখানে কফ, থুতু ও ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
৫. হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু অথবা কাপড় ব্যবহার করুন, বা বাহুর ভাজে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
৬. একান্ত জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন।
৭. নিয়মিতভাবে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন।
৮. করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। কোনও প্রকার লুকোচুরি করবেন না। করোনা আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে যান।
৯. করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সদ্ব্যবহার করুন।
১০. নিয়মিত শরীর চর্চা অথবা শারীরিক পরিশ্রম করুন।
১১. গুজব রটাবেন না, গুজবে কান দেবেন না এবং গুজবে বিচলিত হবেন না।
১২. করোনা মহামারি সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশিত বিধি-নিষেধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করুন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০৮ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৩৫ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮ হাজার ৫০৪ জনে। নতুন করে সুস্থ্য হয়েছে ৬৫৭ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪৫৬০ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করেছি ১৩ হাজার ৯৬১টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ১২ হাজার ৯৪৪টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৩১টি। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ৭৩৫ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৬৮ হাজার ৪০৪ জন। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ।’ ‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৬৫৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৫০৭ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৪২ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৯৩০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।’
