জয়য়পুরহাট সংবাদদাতা; সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে সীমিত আকারে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার নামে জেলার আক্কেরপুরে গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় করছে বিভিন্ন এনজিও। এছাড়া কিস্তি আদায়ের সময় এনজিওকর্মীরা অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
- আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আশা, গ্রামীণব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিও, ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ করে ঋণের কিস্তি আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে নিম্ন আয়ের ঋণ গ্রহীতারা। এছাড়াও ‘আশা’ এনজিও’র শাফিন নামের এক কর্মী কিস্তি আদায়ে অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।
পৌর সদরের খামার কেশবপুর গ্রামের তেলেভাজা চপ বিক্রেতা বাদল বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কিস্তি দেয়ার চাপ দেন ‘আশা’ এনজিও’র শাফিন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতে আমার ব্যবসা বন্ধ ছিল। এখন সীমিত আকারে ব্যবসা করলেও আমি খুব অভাবে আছি।
- ঝালমুড়ি বিক্রেতা শহীদুল বলেন, আশা এনজিও থেকে আমি কিছু ঋণ নিয়েছিলাম। লকডাউনে আমি ঝালমুড়ি বিক্রি করতে না পারায় কিস্তির টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি। আমার সঞ্চয় থেকে জোরপূর্বক কিস্তির টাকা কেটে নেয় তারা।
কেশবপুর গ্রামের গৃহিনী শাহীনা বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। ‘আশা’ এনজিওকর্মী শাফিন এসে কিস্তির ১ হাজার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে আমি ৫শ’ টাকা দেই। এতে সে রাগান্বিত হয়ে টাকা ফেরৎ দিয়ে গালিগালাজ করে।
- গ্রামীণ ব্যাংকের আক্কেলপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোজাহারুল ইসলাম বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ঋণ আদায়ে কাউকে চাপ দেয়া হচ্ছে না।
আশা এনজিও’র রিজিওনাল ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কাউকে চাপ দিচ্ছি না। আমাদের কেউ অশালীন আচরণ অথবা গালিগালাজ করলে তা ঠিক করেনি। আমারা অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেব।
- আক্কেলপুর পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, এই এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষদের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে কিস্তির টাকা পরিশোধ করার সামর্থ নেই। আমি গত ৪ জুন একটি চিঠি দিয়ে উপজেলার সকল এনজিও প্রতিষ্ঠানকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কিস্তির টাকা আদায় না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা অমান্য করছেন। এতে সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, জুন মাস পর্যন্ত আক্কেলপুর উপজেলার সকল এনজিওকে চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি নিতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারপরও যদি কেউ এই নিয়ম না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- এছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায়ের চিত্র দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষেরা। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্য কোন কিস্তি/ঋণকে বকেয়া/খেলাপী দেখানো যাবে না। অর্থাৎ এই সংকটময় সময়ে এমএফআই কর্তৃক ঋণ গ্রহণকারীদের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না। তবে কোন গ্রাহক স্বেচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে ইচ্ছুক হলে সে ক্ষে ত্রে কিস্তি গ্রহণে বাধা থাকবে না। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না জয়পুরহাটে।
আমাদের বাণী ডট কম/১৪ জুন ২০২০/ডিএ
