কুমিল্লায় উম্মে তাসনূর আক্তার রিয়া নামে এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। রিয়ার পরিবারের সদস্যরাও তার মৃত্যু নিয়ে লুকোচুরি করছেন। মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি ভাবে দাফনও সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা মৃত্যুর কারণ জানতে চাওয়া হলেও পরিবার থেকে কেউ কোন তথ্য দিতে রাজি হননি। তথ্য সংগ্রহে নগরীর উত্তর চর্থা রিয়ার খালার বাসায় গেলে সাংবাদিককে বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে। রিয়া খালার বাসায় থেকে পড়ালেখা করতেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় বুধবার সকালে নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এক ছাত্রী মাইক্রোবাসের ধাক্কা নিহত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত বিষয় হলো বুধবার ওই এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।

উম্মে তাসনূর আক্তার রিয়া (১৮) জেলার আদর্শ সদর উপজেলার শিমড়া গ্রামের মৃত মো: শাহজাহান ইসলামের মেয়ে রিয়া। সে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।
দুর্ঘটনার বিষয়ে চানতে চাইলে কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকায় বুধবার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মিজানুর রহমান ও অর্জুন জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা দুইজনই ভাগ করে দায়িত্বে ছিলাম। বুধবার ওই এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার সামনে দ্রæত গতির একটি মোটরসাইকেল থেকে এক তরুণী পড়ে যায়। ঠিক তখন পিছন থেকে আসা একটি গাড়ি ওই তরুণীকে ধাক্কা দেয়। উদ্ধার করে পিকআপ যোগে মেয়েটিকে সেন্ট্রাল মেডিকেল হসপিটালে নিয়ে যায় ওই মোটরসাইকেল চালক এক তরুণ। প্রত্যক্ষদর্শীও হাসপাতলে গিয়ে তরুণকে জিজ্ঞাসা করলো তোমরা কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র? বাসা কোথায়? পরিচয় জানতে চাইলে শুধুই বলে দৌলতপুর। পরে সেন্ট্রাল থেকে নগরীর কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। এখানে ওই তরুণ পরিচয় দিয়েছে বাড়ি কোটবাড়ি। পরবর্তীতে কুমিল্লা টাওয়ারের চিকিৎসকরাও মেয়েটিকে না রেখে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়।

পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে থাকা দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই তরুণীকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ওই তরুণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচয় না দিয়ে চলে যায়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ আহম্মেদ চৌধুরী জানান, বুধবার সাড়ে ১১টার সময় একটি মেয়েকে নিয়ে এসেছে এক তরুণ। তবে মেয়েটি মৃত ছিল। ওই তরুণ পরিচয় না দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মেয়েটির পরিবার এসে মরদেহ নিয়ে যায়।

নগরীর উত্তর চর্থা গিয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, মেয়েটিকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও তার পরিবার কিছুই স্বীকার করছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজ ছাত্রী রিয়ার মামা ওই প্রত্যক্ষদর্শীর কথা সত্য বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, রক্সি নামে এক ছেলের সাথে রিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সে প্রবাসে থাকে। বুধবার যে ছেলের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে রিয়া নিহত হয়েছে সে তার মামাতো ভাই লাগে। তবে তিনি এবং রিয়ার পরিবার মামাতো ভাইয়ের কোন পরিচয় দিতে অনীহা প্রকাশ করে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, বুধবার সদর দক্ষিণ উপজেলার সামনে কোন দুর্ঘটনার খবর আমরা পায়নি। তবে বৃহস্পতিবার কিছু পত্রিকায় দেখেছি একটা মেয়ে নাকি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে। এছাড়া আর কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জামাল নাছের জানান, রিয়া নগরীর উত্তর চর্থায় ছোট খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো। দুই ভাই একবোনের মধ্যে রিয়া সবার ছোট। আমরা তার অকাল মৃত্যুতে শোকাহত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।