হুমায়ুন কবির, কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতা; মৃত্যুর পর এক বৃদ্ধের নমুনা পরীক্ষার পর জানা গেছে তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ছিলেন। মৃত ব্যক্তি জেলার কুমারখালী উপজেলার শেরকান্দি গ্রামের। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২০) জেলার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১০১ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। এটাই করোনাভাইরাস সংক্রমণে জেলার প্রথম মৃত্যু।’
মৃত ব্যক্তির পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলায় নতুন করে আরও ২৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটিই জেলায় এ যাবৎকালে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা (বহিরাগত বাদে) দাঁড়ালো ১৭৯ জনে। এর মধ্যে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৪ জন। একই সাথে বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ১৪০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ জন ও খুলনাতে ২ জনকে প্রেরণ করা হয়েছে।
১৭৯ জনের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় ২৮ জন, ভেড়ামারা উপজেলায় ৩৩ জন, মিরপুর উপজেলায় ১৫ জন, সদর উপজেলায় ৬৫ জন, কুমারখালী উপজেলায় ২৬ জন ও খোকসা উপজেলায় ১২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ রোগী ১৩৩ জন ও নারী ৪৬ জন।
মোট ১৭৯ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৪ জন এবং উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ৩২ জন (দৌলতপুর ১১, ভেড়ামারায় ২, মিরপুরে ৫ জন , সদর উপজেলায় ৪ জন, কুমারখালীয় ৯ জন ও খোকসায় ১ জন) বহিরাগত সুস্থ ২ জন।
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (১১ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ হাজার ১১৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৭৭২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো চার লাখ ৫৭ হাজার ৩৩২টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৮ হাজার ৫২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৭ জন। আগের দিনও সমানসংখ্যক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ৪৯ জনের। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৪৮ জন। ফলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মোট ১৬ হাজার ৭৪৮ জন।
